
ইসরায়েলের সেনাবহরে হিজবুল্লাহ বাহিনী সফল হামলা চালিয়েছে দাবিতে ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার হতে দেখা যাচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দৃশ্যটি সিরিয়ার হামা অঞ্চলে বাশার আল-আসাদ ফোর্সের উপর জাইশ-আল-ইজ্জা বাহিনীর পুরোনো হামলার। সিরিয়া-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওরিয়েন্টের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ভিডিও থেকে জানা যায়, এটি ২০১৬ সালে ধারণকৃত।
ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ৬ এপ্রিল পোস্ট করা হয় ভিডিওটি। ক্যাপশনে লেখা, “লেবানন সীমান্তে জায়গা মতো হিজুদের সফল হিট….।” ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওর ভেতরে লেখা, “ইসরায়েলের সেনা বহরে হিজবুল্লাহর সফল হামলা….।” সেখানে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন ব্যক্তি একটি জায়গায় একত্রে দাঁড়িয়ে আছেন। ৯ সেকেন্ডে একটি “টোউ” মিসাইল তাক করে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ১৭ সেকেন্ডে শুরুতে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের জায়গায় পরপর একাধিক বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়।

ফেসবুকের একাধিক (১, ২) ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।
সত্যতা যাচাইয়ে কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে সিরিয়া-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওরিয়েন্টের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবরে প্রকাশিত একটি ভিডিও সামনে আসে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “দেখুন টোউ মিসাইলের আঘাতে হামার গ্রামাঞ্চলে একদল ইরানি মিলিশিয়ার নিহতের দৃশ্য।” বিস্তারিত বিবরণে লেখা, “‘জাইশ-আল-ইজ্জা’-র মিডিয়া অফিস একটি ভিডিও চিত্র প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তর হামার গ্রামাঞ্চলের মারদাস সংলগ্ন এলাকায় একদল ইরানি মিলিশিয়াকে লক্ষ্য করে একটি টোউ মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছে; এতে তাদের সারিতে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।” ৫৩ সেকেন্ডের ভিডিওটির প্রথম ১৬ সেকেন্ড এবং পরবর্তীতে ২৭ থেকে ৪১ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।
সিরিয়ার একদল সংবাদকর্মীর দ্বারা পরিচালিত দল আলমারা টুডের ইউটিউব চ্যানেলেও একই দিনে প্রকাশিত ভিডিওটি পাওয়া যায়। এ ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “দেখুন.. টোউ মিসাইলের আঘাতে হামার গ্রামাঞ্চলের মা’রদাস ফ্রন্টে জাইশ-আল-ইজ্জার হাতে কয়েক ডজন (ইরানি মিলিশিয়া) হতাহত।” এ ভিডিওর সঙ্গেও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।

এর আগেও এই ভিডিও ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়লে সৌদি আরব-ভিত্তিক তথ্য যাচাইকারী সংস্থা মিসবার একটি যাচাই প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২৪ সালে প্রকাশিত সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওটি সিরিয়ার হামা অঞ্চলে বাশার আল-আসাদ ফোর্সের উপর জাইশ-আল-ইজ্জা বাহিনীর হামলার দৃশ্য।
অর্থাৎ, ইসরায়েলের সেনাবহরে হিজবুল্লাহ বাহিনীর হামলা দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি প্রায় দশ বছর পুরোনো এবং ভিন্ন একটি ঘটনার।
প্রসঙ্গত, চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে বেশকিছু ভুয়া দাবি। পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ভুয়া দাবিতে সাম্প্রতিক সংঘাতের বলে প্রচারের পাশাপাশি ছড়ানো হয়েছে এআই দিয়ে বানানো কনটেন্টও। আর তা নিয়ে বেশকিছু ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।