মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক ইয়েমেনের পানির পাইপকে ইরানের ৭০ বছর আগের মিসাইল বলে প্রচার

ইয়েমেনের পানির পাইপকে ইরানের ৭০ বছর আগের মিসাইল বলে প্রচার

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ইরানের ৭০ বছর আগের মিসাইল দাবিতে একটি ধাতব বস্তুর ছবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতে মিসাইলটি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে পোস্টে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ছবিটি ইয়েমেনের একটি পানির পাইপের।

নিজেদের সংবাদমাধ্যম পরিচয় দেওয়া একটি ফেসবুক পেজ “দ্য শিরোনাম” থেকে ছবিটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “ই স’রায়েলের বি’রুদ্ধে ১৯৫৬ সালের তৈরী এমন পুরোনো মি’সাইল ব্যবহার করছে ই’রান! সেই মি’সাইল আবার সফলতার সাথে আ’ঘাত হে’নেছে ই সরা’য়েলের বুকে। বর্তমান উ’ত্তেজ’নাপূর্ণ প’রিস্থিতিতে ই’রান আরও কী চমক দেখায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই পোস্টে সাড়ে চার শর বেশি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। 

মেহেদী হাসান রসুল নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “যারা ইরানের সাথে খেলার কথা বলে তাদের জন্য, ইরান এখনও ১৯৫৬ সালের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। তাহলে ভাবেন ২০২৬ সালের গুলোর কী হবে?” 

ফ্যাক্টচেক ইয়েমেনের পানির পাইপকে ইরানের ৭০ বছর আগের মিসাইল বলে প্রচার
“দ্য শিরোনাম” নামের ফেসবুক পেজ (বামে) এবং মেহেদী হাসান রসুল নামের অ্যাকাউন্টের পোস্টের স্ক্রিনশট।

এছাড়াও একাধিক পেজ ও প্রোফাইল থেকে ছবিটি একই দাবিতে প্রচারিত হয় (, , )।

তবে এমন দাবিতে ছবিটি আরও আগে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হতে দেখা যায় বিভিন্ন দেশের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে (, , , )। ইরান টাইমস নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে ছবিটি পোস্ট করে ক্যাপশনে ইংরেজিতে লেখা হয়, “ইরান এখনো ১৯৫৬ সালের মিসাইল ব্যবহার করছে। ২০২৬ সালে কী হবে?”

সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স সার্চ করা হলে, ২০২১ সালের একটি ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়। সেখানে হুবহু একই ছবি দিয়ে ক্যাপশনে আরবিতে লেখা ছিল, “তুমি যদি ইতিহাস ও সভ্যতা খুঁজতে চাও, তাহলে তা আদানে খুঁজে দেখ। আদানের প্রধান পানির পাইপলাইনটি ১৯৫৬ সালের— তবুও এখনো মরিচা ধরেনি এবং নষ্টও হয়নি।”

ফ্যাক্টচেক ইয়েমেনের পানির পাইপকে ইরানের ৭০ বছর আগের মিসাইল বলে প্রচার
২০২১ সালের একটি ফেসবুক পোস্টে হুবহু একই ছবি পাওয়া যায়।

শাবওয়া প্রেস’ নামের একটি ইয়েমেনি সংবাদমাধ্যমে একই ছবি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এতে জানানো হয়, ১৯৫৬ সালে স্থাপন করা পাইপটি ইয়েমেনের আদান শহরে অবস্থিত। জাবাল হাদিদ জলাধারে পানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয় এটি। আদান শহরে তীব্র পানি সংকট চলার ফলে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পুরোনো এই পানির লাইন ও জলাধার সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। তাই ২০১৮ সালে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সরকারের কাছে তহবিলের আবেদন জানানো হয়েছিল।

ইয়েমেন-ভিত্তিক আরও একটি সংবাদমাধ্যম “আদান আল-খবর”- এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য জানানো হয়।

ফ্যাক্টচেক ইয়েমেনের পানির পাইপকে ইরানের ৭০ বছর আগের মিসাইল বলে প্রচার
ইয়েমেন-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন।

অর্থাৎ, ইরানের ৭০ বছর আগের মিসাইল দাবিতে প্রচারিত ছবিটি মূলত ইয়েমেনের পানি সরবরাহ করা একটি পাইপ। 

আরো কিছু লেখা