মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
নেপালে বেসরকারি স্কুল বন্ধের দাবিটি ভুয়া ফ্যাক্টচেক

নেপালের বেসরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

নেপালের সব বেসরকারি স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দাবি করে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, নেপাল সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো সত্য নয়।

‘ভারত বিরোধী সৈনিক’ নামের ফেসবুক গ্রুপে একটি প্রোফাইল থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করতে দেখা যায়। কার্ডে নেপালের সদ্য নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের একটি ছবি দিয়ে নিচে লেখা আছে, “নেপালের সমস্ত প্রাইভেট স্কুল বন্ধ  করে দেওয়া হয়েছে ! এখন থেকে নেপালের সরকারি স্কুলে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে অফিসার সবার বাচ্চারা একই স্কুলে পরশোনা করবে।” ক্যাপশনে লেখা আছে, “নেপালের সমস্ত প্রাইভেট স্কুল বন্ধ  করে দেওয়া হয়েছে ! খুবই ভালো একটা পদ্ধতি। (মন ছুঁয়ে গেলো )যা মানুষ কে এক সমান শ্রেণীতে দাঁড়াতে শেখাবে। যে শ্রেণীতে কেউ ছোট এবং কেউ বড় থাকবে না সকলের এক শ্রেণীর মানুষ হবে।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে এক হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। শেয়ার হয়েছে ৪০ বারের বেশি।

এছাড়া, একাধিক প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই দাবিতে পোস্ট করতে দেখা যায় (, , )।

সত্যতা যাচাইয়ে, দাবির সঙ্গে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করা হয়। নেপালের একাধিক সরকারি ওয়েবসাইটে এমন কোনো তথ্য আছে কি না, তা-ও খুঁজে দেখা হয়। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এর সত্যতা পাওয়া যায়নি। এছাড়া নেপালের গণমাধ্যমগুলোতেও এমন কোনো সংবাদ খুঁজে পায়নি ডিসমিসল্যাব।

অধিকতর যাচাইয়ের জন্য নেপালের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘নেপালফ্যাক্টচেক’-এর সম্পাদক উমেশ শ্রেষ্ঠার সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। তিনি জানান, ছড়ানো তথ্যটি মিথ্যা এবং নেপালফ্যাক্টচেক ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। উমেশ শ্রেষ্ঠা আরও বলেন, “নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা ও উপ-সচিব মধুপ্রসাদ ঘিমিরে নেপালফ্যাক্টচেককে জানিয়েছেন, ‘বেসরকারি স্কুল বন্ধ করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'”

অর্থাৎ, নেপালের সমস্ত প্রাইভেট স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দাবিতে ছড়ানো তথ্যটি সঠিক নয়।

প্রসঙ্গত, নেপাল সরকার বেসরকারি স্কুল বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত না নিলেও, অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্ধারিত সীমার বাইরে ফি না নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্কুলগুলোকে সতর্ক করেছে। নির্দেশ অমান্য করলে জরিমানা ও লাইসেন্স বাতিলের মতো শাস্তি হতে পারে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুলগুলো কেবল ১৪টি নির্দিষ্ট খাতে ফি নিতে পারবে। বছরে ১২ মাসের বেশি টিউশন ফি নেওয়া যাবে না। ভর্তি ফি নেওয়া যাবে শুধু একবার, যা এক মাসের টিউশন ফির বেশি হবে না। এ ছাড়া হোস্টেল, খাবার ও যাতায়াত ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।  কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়, নেপালের বেসরকারি স্কুলগুলোকে মোট শিক্ষার্থীর ১০ থেকে ১৫ শতাংশকে বৃত্তি দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে দেশটির নতুন সরকার।

আরো কিছু লেখা