তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check debunking Firstpost’s misleading headline claiming Tarique Rahman credited India for Bangladesh’s existence, showing no quote or evidence supports the claim.

ভারতীয় গণমাধ্যমে তারেক রহমানের বক্তব্য দাবিতে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম প্রচার

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য তারেক রহমান ভারতকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন— শিরোনামে এই তথ্য দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম ফার্স্টপোস্ট। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রতিবেদনে এই দাবির পক্ষে কোনো উক্তি বা প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি এই সংবাদমাধ্যমটি।

“বাংলাদেশের অস্তিত্বের জন্য ভারতকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন খালেদা জিয়ার ছেলে: ইউনূস কি শুনতে পাচ্ছেন?”— এই শিরোনামে ফার্স্টপোস্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে গত ৭ই জানুয়ারি। গণমাধ্যমটি তাদের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একই দাবিতে পোস্ট করে। একই দিনে ফার্স্টপোস্টের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও একই শিরোনামে একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়।

পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি জোটের সাথে বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের ঐতিহাসিক ভিত্তির কথা জোরালোভাবে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দেশটির অস্তিত্ব ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।”

প্রসঙ্গত, গত ৫ই জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানের সাথে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে “মুক্তিযুদ্ধই হলো বাংলাদেশের ভিত্তি, ’৭১ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই থাকবেনা” শিরোনামে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

বিবৃতিতে তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, “মুক্তিযুদ্ধ আমাদের বাংলাদেশের ভিত্তি। ’৭১ বাদ দিলে বাংলাদেশের অস্তিত্বই তো থাকেনা। ফলে আমি এবং আমার দল বিএনপি মনে করে ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০ ও ’২৪ এর গণ অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই আমাদের এগুতে হবে।”

এ ঘটনায় প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাকসহ বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমের (, , , ) প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এসব প্রতিবেদনেও বিবৃতিতে উল্লেখিত তারেক রহমানের একই বক্তব্য পাওয়া যায় যেখানে ভারতের কোনো উল্লেখ নেই। 

অন্যদিকে ফার্স্টপোস্ট-এর শিরোনামে তারেক রহমানের ভারতকে কৃতিত্ব দেওয়ার দাবি থাকলেও বিস্তারিত প্রতিবেদনে তার উল্লেখ নেই। একই দাবিতে দেওয়া তাদের কোনো সামাজিক মাধ্যম হ্যান্ডেলের ক্যাপশনেও শিরোনামের দাবির পক্ষে তারেক রহমানের উদ্ধৃতি অনুপস্থিত। 

অর্থাৎ, ফার্স্টপোস্টের এই শিরোনামের দাবির সাথে প্রতিবেদনের অসামঞ্জস্যতা স্পষ্ট। ভারতীয় এই সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনের শিরোনামটি বিভ্রান্তিকর।

আরো কিছু লেখা