নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check: Old video of BNP secretary general Mirza Fakhrul saying BNP will not join elections under an ‘illegal government’ is falsely shared on Facebook as a recent election boycott decision.

নির্বাচন বর্জন নিয়ে মির্জা ফখরুলের ৩ বছর পুরোনো বক্তব্য সাম্প্রতিক বলে প্রচার

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

“বর্তমানের অবৈধ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না”- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন একটি বক্তব্যে ফেসবুকে প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, দলটি নির্বাচন বর্জন করেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওর দৃশ্যটি ২০২২ সালের ১০ মে যমুনা টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি পুরোনো ভিডিও প্রতিবেদনের। বিএনপি মহাসচিব বক্তব্যে বলেছিলেন, তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো ধরনের নির্বাচনে অংশ নেবেন না তারা।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “এই মুহূর্তে বা ব্রেকিং নিউজ বিএনপি নির্বাচন বর্জন করেছে। এই অবৈধ সরকারের অধীনে বাংলাদেশের কোন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশা নেই। শুভ বুদ্ধির উদয় হোক ভিডিওটি সবাই বেশি করে শেয়ার করুন।।” 

Fact-check: Old video of BNP secretary general Mirza Fakhrul saying BNP will not join elections under an ‘illegal government’ is falsely shared on Facebook as a recent election boycott decision.
ভুয়া দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্যের ভিডিওর স্ক্রিনশট

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১ হাজার ৫০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টটির মন্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায় অনেকেই দাবিটিকে সত্য মনে করছেন। ভিডিওটি ৭০ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, “এতদিনে শুভবুদ্ধি উদয়ন হয়েছে।” আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এতদিন পরেগা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শুভবুদ্ধি উদয়ন হয়েছে।” 

৪৭ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায় যমুনা টিভির একজন সংবাদ পাঠক বলছেন, “এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এই নিয়ে কোনো সংশয় সন্দেহ নেই বলে সাফ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।” স্ক্রিনে প্রেজেন্টারের নাম দেখা যায়, “শাওন দত্ত।” এর নিচে যমুনা টিভির লোগো দেখা যায়।

এরপর খবরের শিরোনাম হিসেবে উঠে আসে “যৌথসভায় মির্জা ফখরুল বর্তমান সরকারের অধিনে যাবেনা বিএনপি।” ভিডিওর ২২ সেকেন্ডে ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বলতে শোনা যায়, “বর্তমানের অবৈধ সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।” ফেসবুকের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে একটি ইউটিউব ভিডিও নজরে আসে। যমুনা টিভির ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ১০মে একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। শিরোনামে লেখা, “বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না বিএনপি: ফখরুল।”

Fact-check: Old video of BNP secretary general Mirza Fakhrul saying BNP will not join elections under an ‘illegal government’ is falsely shared on Facebook as a recent election boycott decision.
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসল বক্তব্য নিয়ে প্রকাশিত একাধিক পুরোনো সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

ভিডিওর বিস্তারিত বিবরণে লেখা, “এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না বিএনপি। এ নিয়ে কোন সংশয়-সন্দেহ নেই-সাফ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বলেছেন, সবার আগে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকার ও নিরপেক্ষ ইসি নিশ্চিত হলেই কেবল নির্বাচনের কথা হতে পারে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কথা বলায় প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। বলেন, এতেই প্রমাণ হয়, সরকার ইচ্ছা করেই নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করছে। পল্টনে যৌথসভা শেষে এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব।” 

২ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটির প্রথম ১৩ সেকেন্ড, পরবর্তীতে ২৪ সেকেন্ড থেকে ৩২ সেকেন্ড পর্যন্ত দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। ভিডিওটির ৫২ সেকেন্ডে বিএনপির মহাসচিবকে বলতে শোনা যায়, “বর্তমানের অবৈধ হাসিনা সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।” এরপর থেকে ১ মিনিট ১৭ সেকেন্ড পর্যন্ত দৃশ্যের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। 

একই দিনে প্রকাশিত ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “বর্তমান সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না: মির্জা ফখরুল।” এই ভিডিওটির ১ মিনিট ২৯ সেকেন্ডেও মির্জা ফখরুলকে বলতে শোনা যায়, “বর্তমানের অবৈধ হাসিনা সরকারের অধীনে বিএনপি কোনো নির্বাচনে যাবে না।”

অর্থাৎ, নির্বাচন বর্জনের ব্যাপারে মির্জা ফখরুলের ৩ বছর পুরোনো বক্তব্যকে আংশিক সম্পাদনা করে সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। 

আরো কিছু লেখা