মো. তৌহিদুল ইসলাম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check showing that viral photos claiming Maulana Mahfuzul Haque recently met former councillor Asif Ahmed Government are actually from 2020 and over five years old

কাউন্সিলর আসিফ আহমেদের সঙ্গে মাওলানা মাহফুজুল হকের ছবিগুলো অন্তত পাঁচ বছর আগের

মো. তৌহিদুল ইসলাম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

মাওলানা মামুনুল হকের বড় ভাই মাওলানা মাহফুজুল হক দুইদিন আগে সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ সরকারের সঙ্গে দেখা করেছেন দাবিতে দুইটি ছবি গতকাল (৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মাহফুজুল হকের সঙ্গে আসিফ আহমেদ সরকারের ছবি দুইটি অন্তত পাঁচ বছর আগের।

ফেসবুকের একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে দুইটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “প্রথম ছবিতে যে দু’জন ব্যক্তি আছে, তাদের একজন আসিফ মাহমুদ সরকার, অপরজন মাহফুজুল হক। [মামুনুল হকের ভাই] এই আসিফ সরকার জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে সরাসরি জড়িত ছিলো! দুদিন আগে মামুনুল হকের বড় ভাই তার সঙ্গে দেখা করে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। যেটা গতকাল সে পোস্ট করে, ক্যাপশন হিসেবে “ঢাকা-১৩” লিখেছে। অর্থাৎ, ঢাকা-১৩ তে ববি হাজ্জাজের বিপরীতে জয় পেতে এখন মামুনুল হক এবং তার ভাই জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে সরাসরি জড়িত লীগারের সহায়তা নিচ্ছে! এই মামুনুল হকই কিন্তু, ২৪ জুলাই ২০২৪-এ তৎকালীন লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে ছাত্রজনতার আন্দোলনকে সহিংসতা বলে অখ্যায়িত করে নিন্দা জানিয়েছিলো। হাজারও ছাত্রজনতার রক্তের বিনিময়ে পাওয়া স্বৈরাচারমুক্ত দেশে, স্বৈরাচারের সঙ্গে আতাতকারী কাউকে সংসদে পাঠানোর আগে ঢাকাবাসীর বারবার ভাবা উচিত!”

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ৭০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। মন্তব্য করা হয়েছে ৮০- টির অধিক। একই দাবিতে একাধিক পোস্ট (, ) পোস্ট করা হয় ফেসবুকে।

একজন মন্তব্য করেছেন, “মামুনুল হককে কখনো ভাল মনে হয় নি।” আরেকজন লিখেছেন, “কি সংঘাতিক।” তবে ছবিগুলো পুরোনো বলেও মন্তব্য করেছেন কয়েকজন। একজন লিখেছেন, “আসিফ কমিশনার হওয়ার পর দোয়া নিতে রাহমানিয়া ভবনে এসেছিলো। এবং সেটাও এসেছিলো ২০২০ এর দিকে। আর এই রাহমানিয়ার সন্তানেরা মোহাম্মদপুরে ২৪ এর নেতৃত্ব দিয়েছিলো। আসিফদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।”

পোস্টে থাকা এমন একাধিক মন্তব্যের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিলে “আসিফ আহমেদ সরকার” নামের একটি ফেসবুক পেজ সামনে আসে। পেজটি থেকে আপলোড হওয়া ২০২০ সালের পোস্টগুলোর মধ্যে ১৪ অক্টোবরের একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়, যেখানে হুবহু একই ছবি দুটি আপলোড করা হয়েছিল।

ক্যাপশনে লেখা ছিল, “”মাওলানা মাহফুজুল হক” ভাল লাগা এক নাম, শ্রদ্ধেয় এক প্রিয় ব্যক্তিত্ব। আমার এত কাছের প্রিয় এ মানুষটি আজ সারা দেশের কওমি মাদ্রাসা সমূহের বোডের্র  সন্মানিত মহাসচিব, ভাবতেই মনটা ভরে ওঠে, তাই নিজের মনকে শান্ত করার জন্য গিয়েছিলাম এই মহীয়সীকে শুভেচ্ছা জানাতে। উত্তম স্বত্তার অধিকারী বুযুর্গ অনেক খুশি হলেন। উপদেশ মূলক অনেক আলোচনা হলো, কিছু ভালো ও যুগোপযোগী দিকনির্দেশনা দিলেন। ভাল লাগার অনুভুতি নিয়ে ফিরে এলাম কিছু সময় তার সান্নিধ্যে কাটিয়ে। অজস্রশুভ কামনা রইলো প্রিয় মাহফুজুল হক আপনার প্রতি………..।”

এছাড়া, একই পেজ থেকে ২০২১ সালে “কোনটা সত্য, কোনটা মিথ্যা” হ্যাশট্যাগ লিখে আপলোড করা একটি পোস্টেও ৯টি ছবির মধ্যে সম্প্রতি ছড়ানো ছবি দুটি খুঁজে পাওয়া যায়। 

অর্থাৎ দুইদিন আগে মামুনুল হকের বড় ভাই মাহফুজুল হক সাবেক কাউন্সিলর আসিফ আহমেদ সরকারের সঙ্গে দেখা করেছেন দাবিতে প্রচারিত ছবিগুলো অন্তত পাঁচ বছর আগের। 

উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৩ আসনের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী। তাঁর দলের প্রতীক ‘রিকশা’।

অন্যদিকে, আসিফ আহমেদ মোহাম্মদপুরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একজন কাউন্সিলর ছিলেন। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যাবহার করে আন্দোলনকারীদের গুলি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে (, , )। 

আরো কিছু লেখা