
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের ছবি ব্যবহার করা একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়েছে। ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, মাহফুজ আনাম জামায়াতকে জনগণের শত্রু বলে উল্লেখ করেন এবং জামায়াত ক্ষমতায় গেলে তারা আমেরিকার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে বলে মন্তব্য করেন। ফটোকার্ডে এখন টিভির লোগোও দেখা যায়। তবে ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা যায়, প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।
ফেসবুকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের ছবি সম্বলিত ফটোকার্ডটি (আর্কাইভ লিংক) পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “যামায়াত ৭১ যে ভুমিকা রেখেছিল মা বোনদের ইজ্জত নষ্ট করেছে এরা দেশের শত্রু জনগনের শত্রু এরা হল মোনাফেক খমতায় গেলে তারা আমেরিকার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করবে,” কার্ডের মাঝামাঝি এখন টিভির লোগো দেওয়া আছে।

পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “যারা বাংলাদেশ চায় নি তারা এখন মালিক হতে চায় এরা ধোকাবাজ,,”(লেখা অপরিবর্তিত)। এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ১৮০ এর বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। এছাড়া কার্ডে দুই শর অধিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোস্টে মন্তব্য করা হয়েছে অন্তত ৪০টি।
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংবাদমাধ্যম এখন টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া এখন টিভির অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও মাহফুজ আনামের এমন কোনো মন্তব্য মেলেনি।

এখন টিভি তাদের নিজস্ব ফটোকার্ডে সাধারণত সাদা এবং হলুদ রঙের ফন্ট ব্যবহার করে। সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা সব ফটোকার্ডে এমনটাই দেখা যায়। তবে প্রচারিত ফটোকার্ডে সাদা রঙের হরফে লেখা হয়েছে এবং লেখার বানানে অনেক ভুল রয়েছে। অন্যদিকে এখন টিভি থেকে প্রকাশিত ফটোকার্ডের ফন্টের সাথেও ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ফন্টের পার্থক্য আছে।
এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে এখন টিভির সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েব ও কন্টেন্ট বিভাগের ইনচার্জ ও জয়েন্ট নিউজ এডিটর আনিসুর সুমন জানিয়েছেন, ‘এখন টিভি’ থেকে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করা হয়নি।
অর্থাৎ জামায়াত ইসলামী প্রসঙ্গে মাহফুজ আনামের মন্তব্যযুক্ত প্রচারিত ফটোকার্ডটি এখন টিভির নয়। মাহফুজ আনামকেও এমন কোনো মন্তব্য প্রকাশ্যে করতে দেখা যায়নি।
অতএব, প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।
এর আগেও জামায়াতে ইসলামীকে ঘিরে মাহফুজ আনামের মতামত বিকৃত করে একটি দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছিল, যা ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে উঠে আসে।