
সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া কার্ডে ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের মন্তব্য হিসেবে বিডি টুডে ডটনেট এর ফটোকার্ডে লেখা হয়েছে, “দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি জামায়াত”। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মূল উপসম্পাদকীয়তে তিনি জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী হওয়ার কারণ হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করে নিজেদের মুসলিম পরিচয়ের সবচাইতে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টার কথা বলেছেন।
বিডি টুডে ডটনেট তাদের ফেসবুক পেজে একটি কার্ড পোস্ট করে মাহফুজ আনামের মতামত হিসেবে বলা হয়েছে, “দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি জামায়াত”। পোস্টটি ১২০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। একজন মন্তব্য করেছেন, “দিল্লি স্টারের নতুন করে চাটার প্র্যাকটিস শুরু হয়ে গেছে।” আরেকজন লিখেছেন, “এই ভদ্রলোকের মুখে এমন কথা এটা তো বিশ্বাস করতে ই কষ্ট হচ্ছে । যাক মানুষ তো পরিবর্তনশীল হয়তো বুঝতে পেরেছেন।”
একই মন্তব্য ব্যবহার করে ফটোকার্ড (১, ২) প্রকাশ করেছে একাধিক গণমাধ্যম। সংবাদমাধ্যমগুলো একই শিরোনামে তাদের প্রতিবেদনও (১, ২) প্রকাশ করেছে। সুখবর-এর প্রতিবেদন শেয়ার করে একজন লিখেছেন, “একসময়ের বামনেতা, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সাংবাদিক মাহফুজ আনাম স্বাভাবিক নিয়মে মরার আগেভাগে মৃত বাবার চেয়ে শতগুণ ডিগ্রি বেশি এগিয়ে শুধু প্রতিক্রিয়াশীলই নন, জামায়াতের মওদুদিবাদ প্রচারের অন্যতম মুখপাত্র হয়ে উঠেছেন। তাঁর দাবি, ‘দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি জামায়াত’।”
প্রতিবেদনগুলো (১, ২) তাদের ফটোকার্ডে বা শিরোনামে মাহফুজ আনামের মন্তব্য হিসেবে বাক্যটি ব্যবহার করলেও প্রতিবেদনে উল্লিখিত মন্তব্য কিছুটা ভিন্ন। প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “বিশিষ্ট সাংবাদিক ও ইংরেজি পত্রিকা ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনামের দাবি, দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মধ্যে মুসলিম পরিচয়ের চেতনা আরও বলিষ্ঠভাবে উন্মেষ হচ্ছে এবং সেই পরিচয়ের সবচেয়ে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের তুলে ধরার চেষ্টা করছে।” গত শুক্রবার (৬ই ফেব্রুয়ারি) ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ‘পলিটিশিয়ানস মাস্ট বি ওপেন টু একসেপ্টিং ইলেকটোরাল ডিফিটস’ শিরোনামের এক উপসম্পাদকীয়-এর বরাতে মাহফুজ আনামের এই মন্তব্য প্রকাশ করা হয়।
কিওয়ার্ড সার্চে দ্য ডেইলি স্টারের ওয়েবসাইটে প্রাসঙ্গিক উপসম্পাদকীয় পাওয়া যায়। সেখানে তিনি যা বলেন তার বাংলা করলে দাঁড়ায়, “তবে, অতীত ইতিহাস সত্ত্বেও, আসন্ন নির্বাচনে জামায়াত এখন উল্লেখযোগ্য এক শক্তি। জনমত জরিপগুলো বলছে, আগামী সংসদে তারা সম্ভবত দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। লজ্জাদায়ক অতীত পেছনে ফেলে তারা কীভাবে আজ এত শক্তিশালী হয়ে উঠল? এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মাঝে ক্রমবর্ধমান মুসলিম আত্মপরিচয়ের বোধকে কাজে লাগানো এবং সেই পরিচয়ের সবচাইতে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে জামায়াতের নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা।”

তবে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে মাহফুজ আনামের মন্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর মুসলিম আত্মপরিচয়ের বোধকে “কাজে লাগানো”র এবং ফটোকার্ডে “প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা” ব্যাপারটি অনুপস্থিত। তাছাড়া তিনি জামায়াতে ইসলামীর শক্তিশালী হওয়ার কারণ হিসেবে তিনি মুসলিম পরিচয়ের বোধকে ব্যবহার করা এবং এই পরিচয়ের সবচাইতে খাঁটি প্রতিনিধি হিসেবে নিজেদের উপস্থাপনের চেষ্টার কথা বলেছেন।
অর্থাৎ, ডেইলি স্টারের উপসম্পাদকীয়তে সম্পাদক মাহফুজ আনামের মন্তব্য একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ও ফটোকার্ডে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।