
‘আল্লাহ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় ইরানের মসজিদে ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দৃশ্যটি ইরানের মসজিদে হামলার নয়, বরং ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার একটি পুরোনো ভিডিও।
ফেসবুকে ‘নরিফাইড’ নামের একটি পেজ থেকে ৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। এর ক্যাপশনে লেখা হয়, “ ‘আল্লাহ’ ধ্বনি উচ্চারিত হচ্ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে ইরানের মসজিদে।” ভিডিওতে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে শোনা গেলেও তা বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গেই থেমে যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি দেড় লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। প্রতিক্রিয়া এসেছে চার হাজারের বেশি।

এছাড়াও একাধিক প্রোফাইল ও পেজ থেকে ভিডিওটি একই দাবিতে পোস্ট করা হয়েছে (১, ২, ৩)।
সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করা হয়। এতে ‘মস্কো নিউজ’ নামের একটি এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর পোস্ট হওয়া হুবহু একই দৃশ্যের ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা আছে, “দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কর্তৃক মসজিদ ধ্বংস।”

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চে লেবানন ডিবেট নামের একটি সংবাদমাধ্যমে একই ভিডিও যুক্ত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এটি প্রকাশ করা হয়েছে ২০২৪ সালের ২৫ অক্টোবর। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওতে দৃশ্যমান ঘটনাটি দক্ষিণ লেবাননের আজ-জহিরা শহরের ‘আর-রাসুল আল-আকরাম’ নামের একটি মসজিদে হামলার।

‘লেবানন ডিবেট’-এর ওই প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনী তখন আরও একাধিক মসজিদ ও আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ওই ঘটনার আগে বিনত জুবাইল জেলার ইয়ারুন শহর এবং আজ-জহিরা শহরের আরও মসজিদ ধ্বংসের ভিডিও প্রকাশ পেয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে যুক্ত ভিডিওতে ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিতে শোনা যায় না। বরং হিব্রু ভাষায় কয়েকজনকে গান করতে শোনা যায়।
অর্থাৎ, ‘আল্লাহ’ ধ্বনি উচ্চারণের সময় ইরানের মসজিদে ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে দাবিতে পোস্ট হওয়া ভিডিওটি মূলত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার একটি পুরোনো ঘটনার দৃশ্য।