
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একটি বার্তা শিটের ছবি শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দাবি করা হচ্ছে, লালমনিরহাট-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা বেশি ভোট পেলেও বিজয়ী হয়েছে ধানের শীষ। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, বার্তা শিটের ছবিটি লালমনিরহাট-২ আসনের কালীগঞ্জের ৮৩টি কেন্দ্রের, এই আসনের অপর উপজেলার ফল বিবেচনা করা হয়নি ছড়ানো দাবিতে। দুই উপজেলার ভোটের যোগফলে ধানের শীষের প্রার্থীই এগিয়ে থাকে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক বেসরকারি ফলাফলের একটি বার্তা শিটের ছবি ছড়িয়ে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। লালমনিরহাট ২ আসনের এই বার্তা শিটে লাল কালিতে চিহ্নিত করা হয়েছে দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষ মার্কায় প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা। দেখা যাচ্ছে, ৮৩টি কেন্দ্রে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো. ফিরোজ হায়দার পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৬১২ ভোট ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী রোকন উদ্দীন বাবুল পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৮১২ ভোট।

ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির ফ্যান ক্লাব নামের এক ফেসবুকে গ্রুপে ছবিটি শেয়ার করে লেখা হয়েছে, “লালমনিরহাট – ০২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট বেশি পেয়ে সংসদ সদস্য হয়েছে ধানের শীষ!” (বানান অপরিবর্তিত)। পোস্টটি এ পর্যন্ত ৫৪০০ বারের বেশি শেয়ার হয়েছে। একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করেছেন আরো একাধিক ব্যবহারকারী (১, ২)।
আরেকজন তার পোস্টে লিখেছেন, “জিতেছে দাড়িপাল্লা; ঘোষণা হয়েছে ধানের শীষ!! লাইলাতুল ঘোষণা।। এভাবে সব কারচুপি বের হয়ে আসবে। ৬৫ হাজার থেকে ৬৪ হাজার বড়? লালমনিরহাট ০২ আসনে, ভোট বেশি পাইছে দাঁড়িপাল্লা, আর বিজয়ী হলো ধানের শীষ এভাবেই সারাদেশে চলেছে ফলাফল।”
ছড়ানো এক পোস্টে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “এই ভোট চুরির দায়-দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন কে নিতে হবে।” আরেকজন লিখেছেন, “সকল কেন্দ্রের পেপারস একসাথে জমা করে নির্বাচন কমিশন অফিসে জমা করুন। যদি মেনে নেয় পুনরায় ভোট গননা হয় আলহামদুলিল্লাহ। না নিলে জনগন নিয়ে রাস্তায় নেমে পরুন।”
বিস্তারিত যাচাইয়ে জানা যায়, লালমনিরহাট-২ আসনটি লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ ও আদিতমারী দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত। লালমনিরহাট-২ আসনের চূড়ান্ত ফলাফলের শিট এবং কালীগঞ্জ ও আদিতমারী দুই উপজেলার বার্তা শিটের ফলাফল সংগ্রহ করে ডিসমিসল্যাব। দেখা যায়, কালীগঞ্জের ৮৩ টি কেন্দ্রের পাশাপাশি আদিতমারীতে আরও ৭২টি কেন্দ্র রয়েছে লালমনিরহাট-২ আসনের অধীনে।

কালীগঞ্জের কেন্দ্রগুলোর মোট ভোটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. ফিরোজ হায়দার ৮০০ ভোটে এগিয়ে থাকলেও আদিতমারীর কেন্দ্রগুলোর মোট ভোটে এগিয়ে যান বিএনপি প্রার্থী রোকন উদ্দীন বাবুল। আদিতমারীর ৭২টি কেন্দ্রের মোট ভোটে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী পেয়েছেন ৫০ হাজার ৬২৪ ভোট ও বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৫৩১ ভোট। অর্থাৎ, আদিতমারীর কেন্দ্রগুলোতে জামায়াত প্রার্থীর চেয়ে ৭ হাজার ৯০৭ টি ভোট বেশি পেয়েছেন বিএনপি প্রার্থী।

লালমনিরহাট-২ আসনের চূড়ান্ত ফলাফলের বার্তা প্রেরণ শিট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ১৭ হাজার ২৫২ ও বিএনপি প্রার্থীর মোট প্রাপ্ত ভোট ১ লাখ ২৩ হাজার ৯৪৬। একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনেও (১, ২) একই ফলাফল পাওয়া যায়। অর্থাৎ আদিতমারী উপজেলার কেন্দ্রগুলোর ফলাফল যোগ হওয়ার পর লালমনিরহাট-২ আসনের মোট ভোটে জামায়াত প্রার্থী থেকে এগিয়ে গেছেন বিএনপি প্রার্থী।
অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে মোট বৈধ ভোট প্রদানের সংখ্যা লেখা ছিল ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮টি, যা শুধু কালীগঞ্জের ৮৩টি কেন্দ্রের ভোট। অথচ লালমনিরহাট-২ আসনের মোট বৈধ প্রদান হয়েছে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৬২টি।
অর্থাৎ, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী দুই উপজেলা নিয়ে লালমনিরহাট-২ হলেও ছড়িয়ে পড়া ছবির শিটে কেবল কালীগঞ্জের ফলাফল আছে, আদিতমারীর ফল নেই। দুই উপজেলার ফল যোগ করলে দেখা যায়, লালমনিরহাট-২ আসনের মোট ভোটে জামায়াত প্রার্থী মো. ফিরোজ হায়দার নন, এগিয়ে ছিলেন বিএনপি প্রার্থী রোকন উদ্দীন বাবুলই।