
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করে দাবি করা হচ্ছে, কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে আগুন দিয়েছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ঘটনাটি আরেক জেলা নরসিংদীর। চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর রায়পুরার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাড়িঘরে সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা এটি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আজ, ১৬ ফেব্রুয়ারি ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে একটি বাড়িতে আগুন জ্বলছে। বাড়ির সামনে কয়েকজন মানুষ জড়ো হয়ে তা দেখছেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে অস্পষ্ট ভাষায় মানুষজনের চেঁচামেচি শোনা যাচ্ছে। ক্যাপশনে লেখা, “কুষ্টিয়া বিএনপি নেতার বাড়িতে আ*গু*ন দিল জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা।’’

আরকেটি ফেসবুক পেজ থেকেও একই ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “কুষ্টিয়া বিএনপি নেতার বাড়িতে আ*গু*ন দিল জামাত শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযোগ।’’ এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ভিডিওটি সাড়ে ৩ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ৭ হাজারের অধিকবার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ৯ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “ তীব্র নিন্দা জানাই এদেরকে আইনের আশ্রয় নেয়া উচিত।’’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “সকল মুক্তিযুদ্ধের শক্তি এক হও, রাজাকার হটাও দেশ বাঁচাও।’’
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটি থেকে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ডিসমিসল্যাব। এতে চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ফেসবুকের ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা, “নরসিংদীর রায়পুরায় সহিংস সংঘর্ষ- নিহত ১, আহত প্রায় ১০, বাড়িতে আগুন।’’ ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে।

বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে দেখা যায়, একাধিক গণমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪) ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। সমকালের প্রতিবেদনে পুলিশ ও পরিবারের বরাতে বলা হয়, ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি নরসিংদীর রায়পুরায় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়া গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বে বাড়িঘরে আগুন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় মুস্তাকিম মিয়া নামে এক স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। তবে কোনো সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে সংঘর্ষকারীদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

অর্থাৎ, কুষ্টিয়ায় বিএনপি নেতার বাড়িতে জামায়াত-শিবিরের অগ্নিসংযোগের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভুয়া। মূল ঘটনাটি প্রায় দুই সপ্তাহ আগে নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তারের জেরে করা অগ্নিসংযোগের দৃশ্য, যা বর্তমানে ভিন্ন দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।