
কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতা মোল্লা পিয়াল মাহমুদকে খুঁটিতে বেঁধে পৈশাচিক নির্যাতনের দাবিতে একটি ভিডিও একাধিক সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি কিশোরগঞ্জের নয়, কুমিল্লার। গত ২৭ মার্চ কুমিল্লার কালীরবাজার ইউনিয়নের মনশাসন গ্রামে চোর সন্দেহে দুই যুবককে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের এই ঘটনা ঘটেছে।
অনলাইনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দৈনিক আজকের কন্ঠ-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ আজকের কন্ঠ ডিজিটাল থেকে সম্প্রতি ১৭ সেকেন্ডের ভিডিওর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, একজনকে পিলারের সঙ্গে বেঁধে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হচ্ছে এবং পাশেই আরেকজনকে মারধর করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে আর কে ছিল— কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করতে শোনা যায় ভিডিওতে। ভিডিও-তে লেখা, “মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানালো! খুঁটিতে বেঁধে ছাত্রলীগ নেতাকে ইলেকট্রিক শক” দিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন”।

কিশোরগঞ্জের নিজস্ব প্রতিবেদকের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, “কিশোরগঞ্জে এক ছাত্রলীগ নেতার ওপর চালানো হয়েছে মধ্যযুগীয় কায়দায় অবর্ণনীয় নির্যাতন। কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক মোল্লা পিয়াল মাহমুদকে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে পৈশাচিক কায়দায় ইলেকট্রিক শক দিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে।” ভিডিওটি এ পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি বার দেখা হয়েছে, শেয়ার হয়েছে দুই হাজার চার শ বারের বেশি। পোস্টে একজন মন্তব্য করেছেন, “যদি আবার কখনো ফিরে আসে ছাত্রলীগ তোদেরকে কে বাঁচাবে ?”। আরেকজন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। লিখেছেন, “এটা কি সত্যি? তদন্ত করে দেখতে হবে।”
১৭ সেকেন্ডের ভিডিওটি একাধিক ফেসবুক প্রোফাইল থেকেও পোস্ট (১, ২, ৩) করে লেখা হয়েছে, “কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মোল্লা পিয়াল মাহমুদকে নির্মম ভাবে শারীরিক নির্যাতন করছে,,,,,,!! জামাত বিএনপির মব বাহিনী।।” একই দাবিতে শেয়ার করা হয়েছে একাধিক ইনস্টাগ্রাম (১, ২) ও এক্স (১, ২) অ্যাকাউন্ট থেকেও। এর মধ্যে একটি পোস্ট দেখা হয়েছে ৪৩ হাজার বার দেখা হয়েছে।

প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে এ ঘটনার মূল ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। বিভিন্ন গণমাধ্যমে গত ২৭ ও ২৮ মার্চ প্রকাশিত একাধিক ভিডিও প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিও-এর সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর পুরোপুরি মিল পাওয়া যায়। জিটিভিতে প্রকাশিত ৫ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রতিবেদনেও একজনকে তার নাম নাঈম বলতে শোনা যায়। ভিডিওর ৩ মিনিট ১৭ সেকেন্ডে আরেকজনকে ভিড়ের মধ্য থেকে একজন জিজ্ঞেস করেন, “চাকরি করলে তর চুরির কাম লাগে?”

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন (১, ২) থেকে জানা যায়, কুমিল্লায় চোর সন্দেহে দুই যুবককে আটক করে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনার দৃশ্য এটি। কুমিল্লার কালীরবাজার ইউনিয়নের মনশাসন গ্রামে গত ২৭ মার্চ (শুক্রবার) সকালে ‘চুরির অভিযোগে’ দুই যুবককে আটক করে রশি দিয়ে বেঁধে ইলেকট্রিক শক দিয়ে নির্যাতন করেছে স্থানীয় লোকজন। নির্যাতনের শিকার মো. নাঈম (২৬) মনশাসন এলাকার বাসিন্দা। তার সহযোগী যুবক (২৪) নগরীর শাসনগাছা এলাকার বাসিন্দা।
নির্যাতনের শিকার দুই ব্যক্তির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা জানতে সংবাদমাধ্যম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি তানভীর দিপুর সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। স্থানীয় প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে তিনি বলেন, “এলাকার বিভিন্ন চুরির কর্মকাণ্ডেই জড়িত ছিল এই দুই জন এবং এখন পর্যন্ত তাদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।” এছাড়া কোনো রাজনৈতিক দল ও অঙ্গসংগঠনে তাদের দলীয় পদ-পদবি নেই বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।
অর্থাৎ, কিশোরগঞ্জে ছাত্রলীগ নেতাকে ইলেকট্রিক শকের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি চোর সন্দেহে কুমিল্লায় নির্যাতনের ঘটনার।