
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেহরক্ষীকে প্রকাশ্যে নিয়ে আসার দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে প্রচার করা হয়, খামেনির অবস্থান ইসরায়েলকে জানিয়ে দিয়ে বিশ্বাসঘাতকতা করায় সেই দেহরক্ষীকে আটক করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি মূলত এটি সিরিয়ার প্রায় একবছরের পুরোনো একটি ঘটনার দৃশ্য।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৪ মার্চ একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে একটি গাড়ি বের হয়ে আসছে। গাড়ির ভেতর থেকে চোখ এবং হাত বাঁধা সাদা টি-শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তিকে বের করা হয়েছে। চোখের বাঁধন খুলে হুইল চেয়ারে থাকা আরেকজন ব্যক্তির সামনে বসানো হয় তাকে।

ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ 🇹🇯💐অবশেষে আয়তুল্লাহ খামিনীর দেহ রক্ষী বিশ্বাস ঘাতক যে আয়াতুল্লাহ্ খামিনির লোকেশন দিয়ে ছিলো ইজরাইলকে সেই কুখ্যাত গাদ্দার কে খামিনির ছেলের আদেশে প্রকাশ্যে নিয়ে এলো ইরানের সেনাবাহিনী।”
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) ও পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হলে এসওয়াইফোর নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত বছরের ২৬ এপ্রিল পোস্ট হওয়া একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। পোস্টের ক্যাপশনে আরবি ভাষায় লেখা, “অপরাধী তাইসিরের সেই সব জননিরাপত্তা কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, যারা তার হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং যাদের পরিবারের সদস্যরা তার হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।” ২ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে একাধিক সামাজিক মাধ্যম প্লাটফর্মে (১, ২, ৩, ৪) সিরিয়ার এই ঘটনাটি নিয়ে ভিডিও প্রকাশিত হতে দেখা যায়। এক্সের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে ২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশিত একই ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়, “ঘাতক তাইসির মাহফুজ দামেস্কের মেজেহ এলাকায় ভুক্তভোগীদের মুখোমুখি হচ্ছেন।”

সিরিয়া-ভিত্তিক গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে (১, ২, ৩) এই ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাহফুজ তাইসির ‘মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ ২১৫’-এর একজন প্রাক্তন কর্মকর্তা ছিলেন। দামেস্কের মেজেহ এবং কাফর সুসা এলাকায় গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে ধারণা করা হয়। অভিযানে তাকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, আসাদ সরকারের শাসনামলে নিরাপত্তা সংস্থায় কর্মরত থাকাকালীন তিনি মেজেহ এবং কাফর সুসা এলাকার ২০০-রও বেশি মানুষকে জোরপূর্বক গুম করেছেন।
অর্থাৎ, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেহরক্ষীকে প্রকাশ্যে আনার দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ইরানের নয়। মূল ঘটনাটি প্রায় এক বছরের পুরোনো সিরিয়ার তাইসির মাহফুজের গ্রেপ্তার-পরবর্তী দৃশ্য।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরে ১ মার্চ ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার খবরটি নিশ্চিত করে ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা (ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি)।