তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মারা যাওয়ার দাবিটি মিথ্যা

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মারা যাওয়ার দাবিটি মিথ্যা

তৌহিদুল ইসলাম রাসো

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

শেরপুরে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে ঝিনাইগাতী যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলাম আহত হয়ে মারা গিয়েছেন দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাব সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দাবিটি মিথ্যা বলে নিশ্চিত করেন। আজ ২৯ ডিসেম্বর সকালে তিনি নিজের আইডি থেকে ফেসবুক লাইভে এসেও এই বিষয়ে কথা বলেন।

আজ (২৯ ডিসেম্বর) ফেসবুকে ডালিয়া রহমান (Daliea Rahman) নামের অ্যাকাউন্ট একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে জামায়াতের হামলার শিকার যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম কিছুক্ষণ আগে মারা গেছে!!” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটি ১৫ হাজারের বেশি ভিউ ও এক শর বেশি শেয়ার হয়েছে। একই দাবিতে ফেসবুকের একাধিক (, , , ) প্রোফাইল ও পেজ থেকে পোস্ট হতে দেখা যায়।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মারা যাওয়ার দাবিটি মিথ্যা
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ডিবিসি নিউজের অফিসিয়াল পেজ থেকে প্রচারিত একটি ভিডিওতেও সাইফুল ইসলামের মৃত্যুর খবর জানান সংবাদমাধ্যমটির স্থানীয় প্রতিনিধি।

দাবির সত্যতা যাচাই করতে নিউজ টোয়েন্টিফোরের স্থানীয় শেরপুর প্রতিনিধি জুবাইদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। তিনি জানান, “শেরপুরে জামায়াত-বিএনপি সংঘর্ষে আহত সাইফুল ইসলাম মারা যাননি, এটি গুজব।” তিনি “সাইফুল ইসলাম” নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে হওয়া লাইভ ভিডিওর বরাতে এমন তথ্য জানান। পরবর্তীতে লাইভ ভিডিওটি দেখে বিষয়টি নিশ্চিত হয় ডিসমিসল্যাব। 

মো. সাইফুল ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে বলেন, “কে বা কারা গুজব ছড়িয়েছে যে আমি মারা গিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ আমি বেঁচে আছি। আমি মারা যাইনি। আর মারা গিয়েছি এই কথাটি মিথ্যা, গুজব। দয়া করে গুজবে কান দেবেন না। সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন, আমার জন্য দোয়া করবেন।”

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মারা যাওয়ার দাবিটি মিথ্যা
মো. সাইফুল ইসলাম ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে নিশ্চিত করেন যে, তিনি বেঁচে আছেন।

ছড়ানো পোস্টে থাকা ব্যক্তির চেহারা ও ফেসবুক লাইভে এসে মৃত্যুর খবরটিকে গুজব বলে জানানো ব্যক্তির চেহারা একই। 

অধিকতর যাচাইয়ে, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। তিনি জানান, ফেসবুকে সাইফুল ইসলাম নামের ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে লাইভে এসে নিজের মৃত্যুর খবরটি গুজব বলে ইতিমধ্যে নিশ্চিত করেছেন। 

সংঘর্ষে আহত হওয়ার ভিডিও ছাড়াও কয়েকটি পোস্টে এক ব্যক্তির রক্তাক্ত মুখমণ্ডলের ছবি দিয়ে “সাইফুল ইসলাম মারা গেছে” দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে ফেসবুকে। এ বিষয়ে নিউজ টোয়েন্টিফোরের শেরপুর প্রতিনিধি জুবাইদুল ইসলাম বলেন, “কয়েক জায়গাতে সাইফুল ইসলামের নামসহ ছবি দেওয়া হচ্ছে আমজাদ হোসেন নামে এক বিএনপি কর্মীর। সেও গুরুতর আহত অবস্থায় জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। কিন্তু যখন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, তখন তার মুখমণ্ডলে বীভৎস আঘাত ছিল। ক্যাপশনে সাইফুল ইসলাম দাবিতেও তার ছবি দিয়ে কিছু পোস্ট হয়েছে যে, সাইফুল মারা গেছে। তো অনেকেই ভাবছে যে, ওখানে সাইফুলের নাম হলেও ছবিতে বীভৎস চেহারায় যাকে দেখা যাচ্ছে সেই লোকটা হয়তো মারা গেছে। আসলে সেও মারা যায় নাই। সে হাসপাতালে ভর্তি আছে, আমি একটু আগে গিয়ে দেখে আসলাম। তার সামনে দাঁত ভেঙে গেছে এবং নাকে মুখে রক্ত আছে।” 

চিকিৎসাধীন আমজাদ হোসেন নামের ওই ব্যক্তির একাধিক ছবি ডিসমিসল্যাবকে পাঠান জুবাইদুল ইসলাম। ছবিগুলোর মেটা ডেটা যাচাই করে সেগুলো আজ ২৯ জানুয়ারি বেলা ১১টা ২৯ মিনিটে তোলা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম মারা যাওয়ার দাবিটি মিথ্যা
রক্তাক্ত মুখমণ্ডলের ছবিটি সাইফুল ইসলামের নয়, বরং আমজাদ হোসেন নামের ভিন্ন এক বিএনপি কর্মীর (বামে); হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আমজাদ হোসেনের ছবি ও তার মেটা ডেটা (ডানে)।

অর্থাৎ, ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে যে ব্যক্তির মাথা থেকে রক্ত বের হতে দেখা যাচ্ছে তিনি সাইফুল ইসলাম হলেও মারা যাননি তিনি। এছাড়া সাইফুল ইসলামের মারা যাওয়ার দাবিতে ভিন্ন ব্যক্তির আরেকটি ছবি ছড়িয়ে পড়ে। আহত সে ব্যক্তির নাম আমজাদ হোসেন, তিনিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।  

আরো কিছু লেখা