
“নারী পুলিশকে চড় দিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রী জুমা”- লেখা একটি ভিডিও যমুনা টিভির ফটোকার্ডের টেমপ্লেট ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মূল ক্লিপটি ফাতিমা তাসনিম জুমার ফেসবুক লাইভ থেকে নেওয়া হয়েছে। যমুনা টিভি এমন কোনো ভিডিও প্রকাশ করেনি।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে যমুনা টিভির লোগোযুক্ত ফটোকার্ডের টেমপ্লেট ব্যবহার করে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। ভিডিওটি শেয়ার করে একজন লিখেছেন, “ইনকিলাব মঞ্চের মবরাজ জুমা নারী পুলিশ কে চড় দিলো। এখন নিজেই ভিক্টিম সাজতেছে।। জামায়াতের শাসনামলে পুলিশের সম্মান কেমন হবে?”

পোস্টটি এ পর্যন্ত ৫ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে, শেয়ার করা হয়েছে দেড় হাজার বারের বেশি। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক শাহেদ আলম পোস্টটি শেয়ার করে প্রশ্ন করেছেন, “জামায়াতের শাসনামলে পুলিশের সম্মান কেমন হবে?”
মূল ক্লিপটি ফাতিমা তাসনিম জুমার ফেসবুক লাইভ থেকে নেওয়া হয়েছে। তার ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের লাইভের ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত কেটে এই ভিডিও তৈরি করা হয়েছে।
ফটোকার্ডের টেমপ্লেটের এই ভিডিও-এর সত্যতা নিশ্চিত করতে যমুনা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজের পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে এই ধরনের কোনো ভিডিও বা প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যায়নি। লেখার ফন্টের সঙ্গে যমুনা টিভি থেকে প্রকাশিত ফটোকার্ডের রং ও ফন্টের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। এছাড়া যমুনা টিভিতে ফটোকার্ডের টেমপ্লেট ব্যবহার করে ভিডিও প্রচার করা হয় না।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে যমুনা টেলিভিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির নিউ মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক রুবেল মাহমুদ ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেছেন, তারা এমন কোনো ভিডিও প্রকাশ করেনি।
অর্থাৎ, ফাতিমা তাসনিম জুমার ফেসবুক লাইভ থেকে একটি অংশ কেটে নিয়ে যমুনা টিভির লোগোযুক্ত ফটোকার্ডের টেমপ্লেট ব্যবহার করে ভিডিওটি ছড়ানো হয়েছে। যমুনা টিভি এই ভিডিওটি প্রকাশ করেনি।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।