
ফেসবুকে যমুনা টিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়েছে। সে ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে ধর্ষণ ঠেকাতে প্রতি উপজেলায় পতিতালয় করে দেওয়া হবে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এমন কোনো ফটোকার্ড যমুনা টিভি প্রকাশ করেনি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২৯ জানুয়ারি ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। যমুনা টিভির আদলে বানানো ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “ক্ষমতায় গেলে ধর্ষণ ঠেকাতে প্রতি উপজেলায় পতিতালয় করে দেওয়া হবে মিয়া গোলাম পরওয়ার।” কার্ডের নিচে যমুনা টিভির লোগো, ওয়েবসাইটের ঠিকানা, ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেলের লিংক দেওয়া আছে।

কার্ডের নিচে যমুনা টিভির লোগোযুক্ত অংশটুকু কেটে ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ এবং প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট হতে দেখা যায়। গ্রুপ এবং প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা পোস্টটির ক্যাপশনের এক অংশে লেখা, “ক্ষমতায় গেলে ধর্ষণ ঠেকানোর নামে প্রতি উপজেলায় পতিতালয় করে দেওয়া হবে এমন ভয়াবহ ও নৈতিকতাবিরোধী মন্তব্য করেছেন মিয়া গোলাম পরোয়ার।”
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে যমুনা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে এই ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া লেখার ফন্টের সঙ্গে যমুনা টিভি থেকে প্রকাশিত ফটোকার্ডের ফন্টেরও পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।
ফটোকার্ড প্রসঙ্গে আরও বিস্তারিত জানতে যমুনা টেলিভিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির নিউ মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক রুবেল মাহমুদ ডিসমিসল্যাবকে জানিয়েছেন, প্রচারিত ফটোকার্ডটি যমুনা টিভির নয়।
অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে জামায়াতের নেতার এ ধরণের বক্তব্য কোনো সংবাদ প্রতিবেদনেই পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ছবিটি নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ঢাকা টাইমস-এ ২৪ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে গত ২৪ জানুয়ারি শরীয়তপুর-৩ নির্বাচনী এলাকা ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা জামায়াতের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত পথসভায় অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষণ প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়। এছাড়া একাধিক (১, ২, ৩) প্রতিবেদনে এই পথসভাতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য তুলে ধরা হয়। কোনো প্রতিবেদনেই ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডে উল্লেখিত বক্তব্যের উল্লেখ নেই। সব প্রতিবেদনেই ছড়িয়ে পরা ছবিটি পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত, পূর্বেও জামায়াত ইসলামকে জড়িয়ে যমুনা টিভির ভুয়া ফটোকার্ড নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।