নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check shows viral image of alleged Jamaat militant arrest in Lakshmipur is misused from a robbery case involving BNP-linked suspects.

ছাত্রদল নেতা গ্রেফতারের প্রতিবেদনের ছবি ছড়াচ্ছে অস্ত্রসহ জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসী আটকের দাবিতে

নোশিন তাবাসসুম

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসী আটক করা হয়েছে দাবিতে একটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার একটি ডাকাতির মামলায় র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদনে সম্প্রতি ছড়ানো ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেফতারকৃতদের একজন ছাত্রদল নেতা, বাকি তিনজন বিএনপির সদস্য।

ফেসবুকে “দশের লাঠি” নামের একটি পেজ থেকে ২২ জানুয়ারি ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডে ভেতরে লেখা, “জনতার দেশ।” ফটোকার্ডের নিচে লেখা, “লক্ষ্মীপুরে অস্ত্রসহ জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসী আটক।” এর নিচে লেখা, “বিস্তারিত কমেন্টে।” ফটোকার্ডের নিচে ডানে তারিখ হিসেবে “২২ জানুয়ারি ২০২৬” এবং বামে জনতার দেশ এর ওয়েবসাইটের ঠিকানা উল্লেখ করা। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪ হাজার ৮০০ এর বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এই পোস্টে। ব্যবহারকারীদের ২৫১টি মন্তব্য করতে দেখা গেছে। পোস্টটি ৩ হাজার ৭০০ বারের বেশিবার শেয়ার হয়েছে।

একই দাবিতে ফেসবুকে “দশের লাঠি” নামের আরেকটি পেজ থেকেও এই দাবিতে ফটোকার্ডটি ছড়াতে দেখা যায় গত ২৭ জানুয়ারি। এই ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “লক্ষীপুরে আ’গ্নে’য়া’স্ত্র জামাতের শীর্ষ সন্ত্রাসী আ’ট’ক।” 

ডিসমিসল্যাব ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম নগর পোস্টের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায়। গত ১৮ জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে ব্যবহৃত ছবির সাথে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের ছবিটি হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়। 

“চন্দ্রগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় অস্ত্রসহ উপজেলা ছাত্রদল নেতা এবং ৩ জন আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার একটি ডাকাতির মামলায় চার আসামি গ্রেফতার হয়েছে র‌্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মালামাল, নগদ টাকা ও একটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ তিনজন ডাকাতকে গ্রেফতার করে।

প্রতিবেদনে গ্রেফতারকৃতদের নাম ও পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে ছাত্রদলের উপজেলা যুগ্ম আহবায়ক এবং সাবেক ছয়ানী ইউনিয়ন সভাপতি হিসেবে জায়েদ হোসেন (৩৬) এর নাম উল্লেখ করা হয়। বাকি তিন ব্যক্তি- বাদশা মিয়া (৩৫), আলা উদ্দিন (৩২) এবং আবুল বাশারকে (৫০) বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া মর্নিং পোস্ট এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “চন্দ্রগঞ্জে ডাকাতির ঘটনায় অস্ত্রসহ উপজেলা ছাত্রদল নেতা এবং ৩ জন আসামি গ্রেফতার, অস্ত্র ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার।” গত ১৮ জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, লক্ষ্মীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. আবু তারেকের নির্দেশনায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল)-এর সহায়তায় এবং চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের তত্ত্বাবধানে পুলিশ অভিযান শুরু করে। সেই প্রতিবেদনেও গ্রেফতারকৃত হিসেবে জায়েদ হোসেন, বাদশা মিয়া, আলা উদ্দিন এবং আবুল বাশারদের নাম লেখা হয়েছে। 

এছাড়া ফেসবুকে “কালার অফ লক্ষ্মীপুর লক্ষ্মীপুর বিচিত্রা” নামের পেজ থেকে ১৮ জানুয়ারি ছড়িয়ে পরা ছবিটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার ডাকাতির মামলায় চার আসামি আটক। অভিযুক্ত বাদশা মিয়া বেগমগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক ছয়ানী ইউনিয়ন সভাপতি ছিলেন!” পোস্টটির কমেন্টে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। এখানেও গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের সম্পর্কে একই তথ্য দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, চন্দ্রগঞ্জ নিউজ ২৪ নামের পেজ থেকেও ছবিটি পোস্ট করা হয়। ১৭ জানুয়ারিতে পোস্টকৃত ঘটনাটিকে ছাত্রদল নেতা আটকের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।  

অর্থাৎ, অস্ত্রসহ জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসী আটক হওয়ার দাবির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির কোনো সম্পর্ক নেই। ছবিটি মূলত ডাকাতির মামলায় বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার প্রতিবেদনের ছবি। পূর্বেও অস্ত্রসহ জামায়াত কর্মী আটক হওয়া নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।

আরো কিছু লেখা