
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি বিএনপি-জামায়েতের সংঘর্ষে রাজধানীতে বাস পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে দাবি করে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, বাসে আগুনের দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুরোনো। সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ভিডিওটি ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর রাতে গাজীপুরে একটি চলন্ত বাসে আগুন লাগার একটি দৃশ্য।
ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একটি জ্বলন্ত বাসের ভিডিও (আর্কাইভ লিংক) পোস্ট করা হয়। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “১০/২/২৬ ঢাকা রাজধানীতে বাসে আগুন দিয়েছে জুলাই রাজাকার এবং বিএনপি, জামাত মুখোমুখি সংঘর্ষ। আপনার নিজ নিজ স্থানে অবস্থা করুন, আর ভোট বর্জন করুন। ভোট কেন্দ্রে জামাত বিএনপির সংঘর্ষে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েন না।”

এই প্রতিবেদনটি লেখার আগ পর্যন্ত ভিডিওটি ১০ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ১৭০ এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে। মন্তব্যের ঘরে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন,“ভোট কেন্দ্রে যাবো না এই হলো নমুনা”, আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “এত মানুষের ক্ষতি করিয়েন না”।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির উৎস যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে গণমাধ্যম বাংলাদেশ বুলেটিনের প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন। ক্যাপশনে লেখা, “এইমাত্র গাজীপুরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন! (খবর কমেন্টে)” ২৫ সেকেন্ডের ভিডিওটির সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালে ১৫ নভেম্বর গাজীপুরে চলন্ত বাসে হঠাৎ আগুন ধরে প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়। ১৫ নভেম্বর, শনিবার রাত পৌনে ৮টার সময় মহানগরীর ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের হারিকেন কারখানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছিল। গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান জানান, খবর পেয়ে আমাদের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, রাজধানীতে গতকাল বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষের কারণে বাসে আগুন দেওয়ার দাবিতে ছড়ানো ঘটনাটি প্রায় ৩ মাস পুরোনো।