
ইরান সমুদ্রের নিচ থেকে ব্যালেস্টিক মিসাইল ছুড়ছে- দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০২২ সালে ২৬ মার্চে ইউক্রেনে রাশিয়ার মিসাইল নিক্ষেপের দৃশ্য।
ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ৩ মার্চ একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “ইরানের নতুন চমক!আজকে তারা সমুদ্রের নিচ থেকে ব্যালেস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। এটা বিপদজনক। কমেন্টে ভিডিও দিলাম, দেখেন পানির নিচ থেকে একের পর এক মিসাইল বের হচ্ছে। ইরানের এরোস্পেস আজকে এই ভিডিও প্রকাশ করেছে।রাডার দিয়ে আকাশ থেকে ভূমিতে মিসাইল লাঞ্চার প্যাড চিহ্নিত করে সেগুলো ধ্বংস করছিলো যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। কিন্তু পানির নিচের গুলো কিভাবে ধ্বংস করবে? এটা অনেক জটিল বিষয়। আজকে ইরান ঘোষণা দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ২ টি থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এতোটাই শক্তিশালী যে, এটা বুঝাতে হলে আরেকটা বিশ্লেষণ মূলক পোস্ট করতে হবে।তাই আপাতত বুঝে নেন, মধ্যপ্রাচ্যে অনেকটাই যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধ করে ফলেছে ইরান, যদি ঘটনা সত্য হয়ে থাকে এবং ইরান যে সামরিক ক্যালকুলেশন করেই আগাচ্ছে এটা ক্লিয়ার।”

এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত, পোস্টটিতে ৮ হাজার ১০০ বারের বেশি প্রতিক্রিয়া ছিল এবং ২০০বার শেয়ার হয়েছে। পোস্টের কমেন্টে ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দেওয়া হয়। ভিডিওটিতে দেখা যায়, পানির নিচ থেকে একে একে ৪টি মিসাইল উৎক্ষিপ্ত হচ্ছে। ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪ ,৫) ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে ২০২২ সালের ২৬ মার্চে প্রকাশিত একটি পোস্ট। পোস্টের ক্যাপশন ছিল, “রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী অস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।”

২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটির ৬ থেকে ১৭ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। একই দিনে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি পোস্ট করতে দেখা যায়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “রুশ সশস্ত্র বাহিনী ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোতে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। 💥 কৃষ্ণসাগর ফ্লিটের একটি ছোট ক্ষেপণাস্ত্রবাহী জাহাজের ক্রুরা কৃষ্ণসাগর থেকে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে চারটি কালিব্র ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই অতি-নির্ভুল মারণাস্ত্রগুলোর নিখুঁত আঘাত জাইটোমির অঞ্চলের ভূখণ্ডে থাকা অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের একটি ডিপো ধ্বংস করে দিয়েছে।” ইউটিউবের একটি চ্যানেল থেকেও একই দিনে ভিডিওটি প্রচারিত হতে দেখা যায় একই দাবিতে।

অধিকতর যাচাইয়ে একাধিক (১, ২) প্রতিবেদন পাওয়া যায় যেখানে মিসাইল নিক্ষেপের দৃশ্যটি দেখা যায়। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের ২০২২ সালের ১৯ জুনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ভিডিওটির একটি দৃশ্যের ছবি দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা হয়, “রাশিয়া জানিয়েছে যে হামলায় সমুদ্র থেকে উৎক্ষিপ্ত ‘কালিব্র’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে (মার্চের একটি হামলার ফাইল ছবি)।”
অর্থাৎ, ইরানের ছোড়া মিসাইল দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ২০২২ সালের এবং ভিন্ন প্রেক্ষাপটের।