নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check: Old 2015 Tianjin, China explosion video falsely shared as Iran launching new-generation missile attack on Israel

ইসরায়েলে মিসাইল নিক্ষেপের দাবিতে চীনের ১০ বছর পুরোনো ভিডিও

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, তেহরান ইসরায়েলে নতুন জেনারেশনের মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ২০১৫ সালের ১২ আগস্টে চীনের তিয়ানজিন বন্দরের বিনহাই নিউ এরিয়ার একটি কন্টেইনার স্টোরেজে ধারাবাহিক বিস্ফোরণের দৃশ্য।

ফেসবুকে “শান্তির ধর্ম ইসলাম” নামের একটি পেজ থেকে ৩ মার্চ একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “ইসরায়েলের ওপর তেহরানের হামলায় নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার।” এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত, ভিডিওটিতে প্রতিক্রিয়া পড়েছে ৫ হাজার ২০০ বারের বেশি। পোস্ট ৪৪৬ বার শেয়ার হয়েছে এবং ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে।

Fact-check: Old 2015 Tianjin, China explosion video falsely shared as Iran launching new-generation missile attack on Israel
ইসরায়েলে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবিতে ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিও পোস্টের স্ক্রিনশট।

৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে একের পর এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ হতে দেখা যায়। একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ইরানে এটা কী মারল! গোলাপ নাকি বোমা, বুঝতে পারলাম না। বোমার নাম নাকি HGV। ইসরায়েলের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বুঝে ওঠার আগেই পুরাই ঝাকানাকা করে দিয়ে দিয়েছে। ইরান কত দিন টিকতে পারবে জানি না, তবে অবিশ্বাস্য চমক দেখাচ্ছে।” ফেসবুকের একাধিক (, , , ) ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পেজ থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। 

সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, ডিসমিসল্যাবের সামনে ইউটিউব চ্যানেলে বিবিসির ২০১৫ সালের ১৪ আগস্টে প্রকাশিত একটি ভিডিও আসে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, “তিয়ানজিন বিস্ফোরণের ভিডিওতে প্রত্যক্ষদর্শীদের আতঙ্ক ধরা পড়েছে।”

Fact-check: Old 2015 Tianjin, China explosion video falsely shared as Iran launching new-generation missile attack on Israel
মূল ঘটনার নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

বিস্তারিত বিবরণে লেখা, “চীনের তিয়ানজিন শহরে দুটি বিশাল বিস্ফোরণের এই ফুটেজটি একজন হতভম্ব প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা, যা এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের ভয় এবং আতঙ্ককে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। বিপজ্জনক পণ্য নাড়াচাড়ায় বিশেষায়িত একটি কোম্পানির মালিকানাধীন গুদামে আগুন লেগে বিস্ফোরণ ঘটলে কয়েক ডজন মানুষ মারা যান এবং শত শত মানুষ আহত হন। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগুনের সময় গুদামে কী ধরনের পদার্থ ছিল বা কী কারণে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে সে সম্পর্কে তারা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শী ড্যান ভ্যান ডুরেন বিস্ফোরণের মুহূর্তটি ভিডিও করেন, এরপর তিনি এবং অন্যরা বিপদ এড়াতে সেখান থেকে সরে যান।”

১ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটির ১ মিনিট ৫ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে ভিডিওটি সাদৃশ্যপূর্ণ। এছাড়া, আরও একাধিক (, ) ইউটিউব ভিডিও পাওয়া যায় যেখানে বিস্ফোরণের দৃশ্যটি দেখা যায়।

অধিকতর যাচাইয়ে একাধিক (, , ) প্রতিবেদন পাওয়া যায় যেখানে বিস্ফোরণের দৃশ্যটি দেখা যায়। বিবিসির ২০১৫ সালের ১৩ আগস্টে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে, “উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং আরও শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শহরের বন্দর এলাকায় ‘বিপজ্জনক এবং রাসায়নিক পণ্য’ মজুত রাখা একটি গুদামে এই বিস্ফোরণগুলো ঘটেছে।” 

অর্থাৎ, ইসরায়েলে মিসাইল নিক্ষেপের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি চীনের ১০ বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ঘটনার দৃশ্য।

ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে পূর্বেও একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব। 

আরো কিছু লেখা