
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে ইরানের গণমাধ্যমের বরাতে দাবি করা হচ্ছে, দেশটিতে বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি সেনা আটক করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি গুগলের এআই মডেলের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। আর ইরানে ইসরায়েলি কোনো সেনা আটকের প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “ইরানের গণমাধ্যম: বিপুল সংখ্যক ইসরায়েলি সেনা আটক করা হয়েছে।” ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি সারিবদ্ধভাবে বসে আছে, তাদের হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। ভিডিওর শুরুতে এক ব্যক্তিকে এসে তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে দেখা যায়। ৮ সেকেন্ডে অংশে দেখা যায়, ৬ জন ব্যক্তি বসে আছে এবং তাদের ঘিরে একাধিক ব্যক্তি রাইফেল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। একই ভিডিও ফেসবুকের একাধিক (১, ২) ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও পোস্ট করা হয়।

ভিডিওটি যাচাইয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি দেখা যায়। শুরুতে যে ব্যক্তি সারিবদ্ধভাবে বসে থাকা ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে কথা বলেন, তার আশেপাশে একটি অস্পষ্ট আবহ লক্ষ্য করা যায়, যা ভিডিওর অন্য কোথাও দেখা যায় না। একইসঙ্গে এই ব্যক্তিটির পেছনে অন্য দুজন ব্যক্তিকে হঠাৎ ভিডিওতে গাড়ি ভেদ করে আসতে দেখা যায়। ১১ সেকেন্ড অংশে দূরে দেখতে পাওয়া একটি গাড়ির সামনে দিয়ে ছায়া-সদৃশ জিনিস সরে যেতে দেখা যায়।
সত্যতা যাচাইয়ে, গুগল জেমিনির এআই শনাক্তকরণ টুল সিন্থআইডির মাধ্যমে ভিডিওটি পরীক্ষা করে ডিসমিসল্যাব। ফলাফলে দেখা যায়, ভিডিওতে সিন্থআইডির জলছাপ রয়েছে। অর্থাৎ, ভিডিওটি গুগলের কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল ব্যবহার করে বানানো। এছাড়া এআই শনাক্তকরণ টুল ডিপফেক-ও-মিটার দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল।
প্রচারিত ভিডিওটিতে ইরানের গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ থাকায় দেশটির একাধিক গণমাধ্যম যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে কোনো গণমাধ্যমেই ইরান কর্তৃক ইসরায়েলি সেনা আটকের সংবাদ পাওয়া যায় না। তবে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে (১, ২, ৩) গত ১৯ মার্চ ইরানে ৯৭ জন ব্যক্তিকে আটকের সংবাদ পাওয়া যায়, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকার অভিযোগে। কিন্তু ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।
এ বিষয়ে ভারতের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা নিউজ মিটারের একটি ফ্যাক্টচেক রিপোর্টও খুঁজে পাওয়া যায়। সেখানেও ভিডিওটি এআই দিয়ে বানানো হয়েছে বলে জানানো হয়। অর্থাৎ, ইরানের গণমাধ্যমের বরাতে ইসরায়েলি সেনা আটকের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি।
প্রসঙ্গত, চলমান ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়েছে বেশকিছু ভুয়া দাবি। পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ছবি-ভিডিও ভুয়া দাবিতে সাম্প্রতিক সংঘাতের বলে ছড়ানোর পাশাপাশি ছড়ানো হয়েছে এআই দিয়ে বানানো কনটেন্টও। আর তা নিয়ে বেশকিছু ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।