
সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে সম্প্রতি একটি অগ্নিকাণ্ডের ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, গভীর রাতে ইসরায়েলের ওপর হামলা করেছে ইরান। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি পুরোনো এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটিও ইসরায়েলের নয়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ঘটনাটি চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি মিশরের আল-জারায়েব এলাকায় চারটি ভবনে হওয়া অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৩ মার্চ একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে আগুনে কয়েকটি ভবন পুড়ে যাচ্ছে। আলোকচিত্রী জুম করে জ্বলন্ত ভবনটিকে দেখাচ্ছেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে মানুষের উচ্চশব্দে চিৎকার শোনা যাচ্ছে।

ক্যাপশনের একটি অংশে পোস্টদাতা লিখেছেন, “এই গবির রাতে ইরানের হামলা, ইজরায়েল জ্বলছে, আলহামদুলিল্লাহ,,সবাই বেশি বেশি শেয়ার করুন,,,ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে ইজরায়েল। রাতভর আক্রমণে ছিন্নভিন্ন তেলআবিব। ইরানের কাছে অনুরোধ, যেহেতু তোমাদের সবকিছু শেষ করে দিয়েছে ওরা। তোমরাও এই বিষফোঁড়া দেশটিকে পৃথিবী থেকে নিঃশেষ করে দাও।’’ (লেখা অপরিবর্তিত)
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩) ও পেজ থেকে ইসরায়েলের ওপর ইরানের হামলার দাবিতে একই ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কি-ফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। ‘লোভিন কায়রো’ নামের একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি পোস্ট হওয়া একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ক্যাপশনে লেখা,“দমকল বাহিনী এবং রেড ক্রিসেন্ট জারায়েব এলাকার আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে তদন্ত চালানো হচ্ছে।’’ ৩৯ সেকেন্ডের এই ভিডিওর প্রথম ১৫ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর হুবহু মিল পাওয়া যায়।

বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে একাধিক সামাজিক মাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪, ৫) মিশরের ঘটনাটির ভিডিও পাওয়া যায়। জানা যায়, চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি দেশটির রাজধানী কায়রোর পশ্চিমাঞ্চলে মানশিয়াত নাসের জেলার আল-জারায়েব এলাকায় চারটি ভবনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

মিশরভিত্তিক একাধিক গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে (১, ২, ৩, ৪) এই অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দেখা যায়। সংবাদমাধ্যম ইজিপ্ট টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়,“কায়রোর পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকা মানশিয়াত নাসেরের বেশ কয়েকটি ভবনে রাতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে গভর্নর অফিস। এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে মিশরীয় রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তাদের জরুরি দল ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া বেশ কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেছে। গভর্নর জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করার জন্য এই অভিযানে প্রথমবারের মতো ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।’’
অর্থাৎ, ইসরায়েলের ওপর ইরানের হামলার দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ১ মাস পুরোনো। মিশরে কয়েকটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের দৃশ্য এটি।
এর আগেও একই ভিডিওটি পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ওপর আফগানিস্তানের রকেট হামলার দাবিতে ছড়ালে পাকিস্তান ভিত্তিক তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ‘আইভেরিফাই পাকিস্তান’এর ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে তা উঠে আসে।