
ইরানের হামলায় ইসরায়েলে সেনা হেডকোয়ার্টার ধ্বংস হয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, এটি ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ভবনে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য।
“চেতনা নিউজ” নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ১১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “ই/স/রা/ই/লের সেনা হেডকোয়ার্টে হা/ম/লা চালিয়ে ধং/স করে দিল ইরান – আলহাদুলিল্লাহ।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি অন্তত ৩০ হাজার বার দেখা হয়েছে। শেয়ার হয়েছে ১০০ বারের অধিক। এছাড়া ব্যবহারকারীদের দুই হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া জানাতে দেখা গেছে।

কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর একটি অংশে থাকা দৃশ্যের সঙ্গে “ইসরায়েলে হামলা” দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর দৃশ্য হুবহু মিলে যায়।

আল-জাজিরার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ওই ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা আছে, “ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ (মজলিশ-ই খোবরেগান-ই রাহবারি) ভবনে হামলার পর ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র”। বিস্তারিত বর্ণনায় লেখা, “ভিডিওতে ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত কোম শহরে থাকা বিশেষজ্ঞ পরিষদ ভবনে একটি বিমান হামলার পরের পরিস্থিতি দেখা যায়। নিহত সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচন করবে এই পরিষদটি।”
একই ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও ইরান ইন্টারন্যাশনালেও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম “অ্যাক্সিওস”- এর বরাতে জানানো হয়, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে গত মঙ্গলবার(৩ মার্চ) দেশটির পবিত্র শহর কোমে “কাউন্সিল অব এক্সপার্টস” বা বিশেষজ্ঞ পরিষদ ভবনে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

একজন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গত শনিবার প্রথম দফার ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য যখন ভোট গণনা চলছিল, ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়। প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, “হামলার সময় ৮৮ সদস্য বিশিষ্ট এই কাউন্সিলের ঠিক কতজন নেতা ভবনে উপস্থিত ছিলেন বা এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু নিশ্চিত করা যায়নি।”
অর্থাৎ, ইসরাইলের সেনা হেডকোয়ার্টার ধ্বংস হয়েছে দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি মূলত ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদ ভবনে হামলার পর ধ্বংসস্তূপের দৃশ্য।