নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check: Viral video claiming Iran’s ambassador was expelled from Lebanon is misleading; the footage is a 2022 arrest incident unrelated to the claim.

লেবাননে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে অপসারণের দাবিতে পুরোনো ভিডিও প্রচার

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

লেবানন থেকে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে অপসারিত করার মুহূর্ত দাবিতে ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও শেয়ার করা হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি ভুয়া। প্রচারিত ভিডিওটি অন্তত তিন বছরের পুরোনো। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মূল ঘটনাটি ২০২২ সালে তৎকালীন লেবানিজ প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনকে গালিগালাজ করার দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার ভিডিও।

ফেসবুকের এক ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৩০ মার্চ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “লেবানন থেকে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে অপসারিত করার মুহূর্ত।” এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৪২ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে। পোস্টের মন্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেকেই ভিডিওটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “শিষ্টাচার বহির্ভুত কাজ।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “লেবানন তোমরা যেটা করেছ এইটার কোন ক্ষমা নেই!এর উত্তর অবশ্যই দিবে ইনশাআল্লাহ ইরান।” 

Fact-check: Viral video claiming Iran’s ambassador was expelled from Lebanon is misleading; the footage is a 2022 arrest incident unrelated to the claim.
ভুয়া দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিওর স্ক্রিনশট।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (, ) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি শেয়ার করা হয়। 

সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে বেশকিছু সংবাদ প্রতিবেদন (, , ) খুঁজে পাওয়া যায়। ২০২২ সালে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে যে ছবি-ভিডিও ব্যবহার করা হয়েছে, তা ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আকবার আল বালাদে প্রকাশিত সেই সময়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, “আল-জাদিদ টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হারত হরাইক এলাকা থেকে এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় তিনি প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনকে অপমান করেছিলেন।” 

বাহরাইনের সংবাদমাধ্যম আলওয়াতানের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, “বৈরুতের উপশহর এবং হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হারত হরাইক থেকে ‘উই আর দ্য চেঞ্জ’ নামক একটি তালিকার প্রতিনিধি শারবেল তাহুমিকে মারধর করা হয় এবং একটি কালো গাড়িতে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। খবর পাওয়া গেছে, প্রেসিডেন্ট গার্ডের একটি দল তাকে অপহরণ করেছে, কারণ প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন সেখানে ভোট দিতে এসেছিলেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হারত হরাইকে ভোট দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করার পর তাহুমি-কে মারধর ও গ্রেপ্তার করা হয়।” আলওয়াতানের ইনস্টাগ্রামেও ভিডিওটি একই দিনে পোস্ট করা হয়।

Fact-check: Viral video claiming Iran’s ambassador was expelled from Lebanon is misleading; the footage is a 2022 arrest incident unrelated to the claim.
ভিডিওটির আসল ঘটনা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামাজিক মাধ্যমের পোস্টের স্ক্রিনশট।

এছাড়া আরেক লেবানিজ সংবাদমাধ্যম আল জাদিদ নিউজের এক্স অ্যাকাউন্টে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “হারত হরাইক এলাকায় এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; অভিযোগ রয়েছে, ভোটকেন্দ্রে ভোট দেওয়ার সময় তিনি প্রজাতন্ত্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন।” 

এর আগেও ভিডিওটি একই দাবিতে ছড়িয়ে পড়ার প্রমাণ পাওয়া যায় সৌদি আরব-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল মারসাদে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে। এক বছরের পুরোনো সেই প্রতিবেদনে বলা হয়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে লেবানন থেকে বের করে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বৈরুতে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভিডিওটি নিয়ে অনুসন্ধানের ‘আল-মারসাদ’ জানতে পেরেছে যে, এর সঙ্গে যুক্ত তথ্যগুলো সঠিক নয় এবং ভিডিওটি ২০২২ সালের। মূল ঘটনাটি হলো, তৎকালীন লেবানিজ প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনকে গালিগালাজ করার দায়ে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তাকে বলপ্রয়োগ করে আটক করা হয়।”

অর্থাৎ, লেবাননে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে অপসারণের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি অন্তত তিন বছর পুরোনো ভিডিও এবং ভিন্ন একটি ঘটনার।

আরো কিছু লেখা