মিনহাজ আমান

রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব
বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু নিয়ে ভুল তথ্য সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে
This article is more than 1 year old
আন্তর্জাতিক সেতু

বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু নিয়ে ভুল তথ্য সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে

মিনহাজ আমান
রিসার্চ-লিড, ডিসমিসল্যাব

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আন্তর্জাতিক (দুই দেশকে সংযুক্ত করা) সেতু নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমে দুটি দাবি পাওয়া গেছে। এদের একটিতে বলা হয়েছে, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্পেন ও পর্তুগালকে সংযুক্ত করা একটি সেতুর নাম এসেছে সবচেয়ে ছোট আন্তর্জাতিক সেতু হিসেবে। অপরটিতে বলা হচ্ছে, জ্যাভিকন দ্বীপে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযুক্ত করা সেতুটিই বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আন্তর্জাতিক সেতু। কিন্তু ডিসমিসল্যাবের যাচাইয়ে দেখা গেছে দুটি দাবিই ভুল। প্রথম সেতুটির নাম গিনেস রেকর্ডসে ওঠেনি এবং দ্বিতীয়টি বিশ্বের সবচেয়ে ছোট আন্তর্জাতিক সেতু নয়।

প্রথম দাবিটি পাওয়া যায়, গত ২৯ জানুয়ারি, ফেসবুকে (, )। পোস্টটির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া গ্রাফিক্সে বলা হয়, “পর্তুগাল-স্পেন সীমান্তে গেলেই দেখা মিলবে এমনই আশ্চর্য এক সেতুর। যার দৈর্ঘ্য মাত্র ১০.৪ ফুট বা ৩ মিটার। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু হিসাবে ‘গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড’ রেকর্ডের পাতায় নাম তুলেছে এই সেতুটি।” এই দাবি বিজ্ঞান-তথ্যের একটি গ্রুপে পোস্টের পর থেকে প্রায় আড়াইশ বার শেয়ার করা হয়েছে।

  • ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু
  • ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু

পোস্টের সঙ্গে সুত্র হিসেবে যুক্ত করা হয় ‘এটলাস অবস্কিউরা’ নামের একটি পোর্টালে ২০১৭ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনকে। প্রতিবেদনটির কোথাও বলা হয়নি যে স্পেনের লা কোডোসেরা মিউনিসিপ্যালিটিকে পর্তুগালের আরনোচেসের সঙ্গে সংযুক্ত করা সেতুটির নাম গিনেস রেকর্ডসে উঠেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ওয়েবসাইটেও ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতুর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

২০২০ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের স্প্যানিশ সংস্করণে সেতুটি নিয়ে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। তাতে এটিকে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু বলে অভিহিত করা হয়। স্পেনের লা ভ্যানগার্ডিয়ার সাময়িকী জানায়, স্পেন ও পর্তুগালকে যুক্ত করা এল মার্কো গ্রামে অবস্থিত ক্ষুদ্রতম সেতুটি ২০০৮ সালে তৈরি করা হয়েছে। দুটি সূত্রের কোথাও গিনেস রেকর্ডের প্রসঙ্গ নেই। 

আরও নিশ্চিত হতে স্পেনের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা ভেরিফিক্যাট-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ভেরিফিক্যাটের প্রতিনিধি হাভিয়ের ক্যাস্টিলো জানান, স্পেন-পর্তুগালের সংযোগস্থলে এল মার্কোতে অবস্থিত সেতুটিকে পৃথিবীর ছোট সেতু হিসেবে দাবি করে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, “তবে সেটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে উঠেছে এরকম কোনো তথ্য আমরা খুঁজে পাইনি।”    

এই দাবি নিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু নিয়ে দ্বিতীয় দাবিটি সামনে আসে। ২০১৫ সাল থেকে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে (, , , , ) প্রকাশিত খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার জ্যাভিকন দ্বীপের দুটি অংশকে আন্তর্জাতিকভাবে যুক্ত করা ৩২ ফুটের সেতুটি “বিশ্বের ক্ষুদ্রতম আন্তর্জাতিক সেতু।” তবে পাঁচটি গণমাধ্যমের কোনোটিই এই তথ্যের সূত্র উল্লেখ করেনি।

উল্লেখ্য, স্পেন-পর্তুগাল সীমান্তের মধ্যবর্তী কাঠের সেতুটি কানাডা-আমেরিকার মধ্যকার সেতুর তুলনায় প্রায় ২২ ফুট ছোট। 

যাচাই করতে গিয়ে এই দাবিটি পাওয়া যায় মূলত ভ্রমণ বা পর্যটন সংক্রান্ত কিছু ওয়েবসাইটে। যদিও ২০১০ সালের অক্টোবরে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একটি ভ্রমণ বিষয়ক লেখায় স্থানীয় অধিবাসীদের বরাতে বলা হয়, দাবিটি ভিত্তিহীন। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের লেখককে স্থানীয় রেস-বোট মালিক, ৯২ বছর বয়সী বব কক্স বলেন, “এটি এক ডাহা মিথ্যা যা ১৮৮০ সাল থেকে তারা পর্যটকদের শুনিয়ে আসছে।” 

আরো কিছু লেখা