তামারা ইয়াসমীন তমা

রিসার্চার, ডিসমিসল্যাব
সৌদিতে রমজান মাসে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি
This article is more than 11 months old
Saudi Ramadan factcheck Feature image

সৌদিতে রমজান মাসে লাউডস্পিকারে আজান প্রচারে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়নি

তামারা ইয়াসমীন তমা
রিসার্চার, ডিসমিসল্যাব

আসন্ন রমজানে সৌদি আরবে আজানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে– এমন একটি সংবাদ গত কয়েকদিনে সামাজিক মাধ্যমে (, , , ) ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতের একাধিক বাংলা (, , , ) ও ইংরেজি গণমাধ্যমের শিরোনামেও (, , , , ) সৌদিতে রোজার মাসে মসজিদে লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। 

তবে যাচাই করে দেখা গেছে, রমজান সামনে রেখে সৌদি আরবের মিনিস্ট্রি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স যে ১০টি নির্দেশনা জারি করেছে তাতে আজানের শব্দসীমা কিংবা লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ করা নিয়ে কোনো নির্দেশনা নেই। 

এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মসজিদের বাইরে লাউডস্পিকারের সংখ্যা সর্বোচ্চ চারটি রাখার নির্দেশনা জারি করে সৌদি এই মন্ত্রণালয়।

রমজান মাসে মসজিদগুলোর জন্য গত ৩ মার্চ আরেকটি নির্দেশনা জারি করা হয়। দেশটির মিনিস্ট্রি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ অ্যান্ড গাইডেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ আবদুললতিফ বিন আবদুলআজিজ আল-শেখ এই নির্দেশনা দেন। সেখানে ১০টি নির্দেশ রয়েছে।

গত ৩ মার্চ মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে আরবিইংরেজি দু’ভাষাতেই তা প্রকাশিত হয়। তবে যাচাই করে দেখা গেছে, জানুয়ারি ও মার্চের দুটি নির্দেশনার কোনোটিতেই লাউডস্পিকার ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, বা আজান নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়নি। 

গুজবের সূত্রপাত যেভাবে

সৌদি সরকারের নির্দেশনা জারির পরেই নির্দেশনাটি বিশ্লেষণ করেন মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক পত্রিকা দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের প্রতিষ্ঠাতা সামি হামদি। সামি তার টুইটার হ্যান্ডেল ও দ্য ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারেস্টের ইউটিউবে প্রকাশিত ভিডিওতে নির্দেশনাগুলোর সমালোচনা করেন এবং দাবি করেন যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান রমজানে বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে ইসলামের প্রভাব কমানোর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

টুইটারে সামি হামদি লিখেছেন, “সৌদি আরবে রমজানে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন বিন সালমান”। এরপর তিনি ছয়টি পয়েন্ট উল্লেখ করেন, যার প্রথমেই ছিল ‘লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না’।  

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সামি হামদি এক পর্যায়ে (ভিডিওর ৬ মিনিট ৩ সেকেন্ড থেকে ৬ মিনিট ৩২ সেকেন্ড অংশে) ২০২১ সালে সৌদি আরবের মসজিদে লাউডস্পিকার ব্যবহার সীমিত করার প্রসঙ্গ উত্থাপন করে মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করেন। এই অংশে হামদি বলেন, “গত রমজানেও সালমান সীমিত লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিয়মে শিথিলতা আনেননি।”

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালে সৌদির মিনিস্ট্রি অব ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স শুধুমাত্র পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের আজান ও ইকামতে লাউডস্পিকার ব্যবহার সীমাবদ্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়। এছাড়া লাউডস্পিকারের ভলিউম সর্বোচ্চ শব্দসীমার এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সে বছরের নির্দেশনাতেও লাউডস্পিকার একেবারে নিষিদ্ধ করার কোনো বিষয় ছিল না।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মন্ত্রণালয় আবারও মসজিদের বাইরে সর্বোচ্চ চারটি লাউডস্পিকার ব্যবহারের নির্দেশনা জারি করে।

এই সময়, ফার্স্ট পোস্ট, অপ ইন্ডিয়ালাইভ মিন্টের মতো গণমাধ্যমগুলো সামি হামদির বক্তব্যের উল্লেখ করে সৌদি আরবে রমজানে লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে না বলে সংবাদ প্রচার করে। ফার্স্ট পোস্টদ্য প্রিন্টের প্রতিবেদনে গত বছর মসজিদগুলোতে নিয়ন্ত্রিতভাবে লাউডস্পিকার ব্যবহারের নির্দেশনা এ বছর রমজানেও অব্যাহত থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। ইতোমধ্যে ভারতীয় ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা অল্ট নিউজও টুইটার ও গণমাধ্যমে সৌদিতে লাউডস্পিকার নিষিদ্ধ হওয়ার গুজব  খণ্ডন করেছে।    

আরো কিছু লেখা