
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার হতে দেখা যাচ্ছে। দাবি করা হচ্ছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর হেডকোয়ার্টার ও বাসভবনে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপ করার দৃশ্য সেটি। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১ মার্চ একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে বলা হয়, “ইফতারের আগে শুভ সংবাদ। কিছুক্ষণ আগে নেতানিয়াহুর হেডকোয়ার্টার, বাসভবনে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে ইরান।” এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত, ভিডিওটি ৫৫৭ বার শেয়ার হয়েছে এবং ১ লক্ষ ২৭ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে।

১৮ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ভবন দেখা যায়। ভিডিওর প্রথম সেকেন্ডে ভবনটিতে একটি মিসাইল বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। ৭ সেকেন্ডে আরেকটি মিসাইল ভবনটিতে বিস্ফোরিত হয়। ১৬ সেকেন্ডে ভবনটি ধসে পড়তে দেখা যায়।
ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫) প্রোফাইল ও পেজ (১, ২, ৩) থেকে একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। যাচাইয়ে বেশ কিছু অসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রথম বিস্ফোরণের পর ভবনটি ধসে পড়ার কোনো আলামত দেখা যায়নি। এমনকি ভবনের কোথাও কোনো ফাটল দেখা যায়নি। দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি সে তুলনায় বড় হয়, তবে এবারো ভবনটিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ভবনের উপরে ইসরায়েলের পতাকাও উড়তে দেখা যায়। ভিডিওটির ১৬ সেকেন্ডে ভবনটি ধসে পড়তে দেখা গেলেও, শেষ সেকেন্ডে দেখা যায় ভবনটি পুনরায় দাঁড়িয়ে আছে।
আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে এআই কনটেন্ট শনাক্তকরণ টুল হাইভ মডারেশন ও ডিপফেক ও মিটার দিয়ে যাচাই করেও দেখা গেছে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরির সম্ভাবনা প্রবল।

অর্থাৎ, নেতানিয়াহুর হেডকোয়ার্টার এবং বাসভবনে ইরানের মিসাইল নিক্ষেপের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি এআই দ্বারা তৈরি।
প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দশম ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নেতানিয়াহুর কার্যালয় ‘গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলে দাবি করেছে। এ বিষয়ে একাধিক (১, ২) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এছাড়া ইরানের সংবাদসংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে হামলার বিষয়ে দাবি করে। তবে ইসরায়েলি সংবাদ মাধ্যমগুলোর বিশ্লেষকরা এ দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। টাইমস অব ইসরায়েলের ২ মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
ইরান-ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিয়ে পূর্বেও একাধিক ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।