
ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধ্বসের ছবি হিসেবে দেশি-বিদেশি একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন ও সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে একটি ছবি প্রচার হতে দেখা যায়। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছবিটি ২০২৪ সালের। গত বছরের মার্চের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশের রাজধানী পাদাং শহরের ছবি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়েছে।
৪ নভেম্বর বাসস (বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা) তাদের প্রতিবেদনে একটি ছবি ব্যবহার করে আকস্মিক বন্যায় পূর্ব পাপুয়া পেগুনুঙ্গান প্রদেশের এনদুগা রিজেন্সির কমপক্ষে ১৫ জন নিহত হওয়ার সংবাদ প্রকাশ করে।
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে ঘূর্ণিঝড় ও টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধ্বসে ৯১৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আজ (৭ ডিসেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশ করে ঢাকা পোস্ট। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে সেই প্রতিবেদনে একই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে তাতে ছবির কোনো উৎসের উল্লেখ নেই। দৈনিক নিরপেক্ষ নামে একটি গণমাধ্যমও তাদের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটে একই ছবি দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
এই ছবি ব্যবহার করে দ্য নিউ নেশন গত ২৯ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপ থেকে মৃতদেহ উদ্ধারের প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনের ছবির উৎস হিসেবে রয়টার্স লেখা থাকলেও কোনো তারিখ, স্থান বা ক্যাপশন নেই।
ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড ৬ ডিসেম্বর এই ছবি ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে বন্যা সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ছবির উপর রয়টার্স লেখা থাকলেও তাতে আর কোনো তথ্য নেই। এর আগে তাদের এক্স হ্যান্ডেলেও ২৯ নভেম্বর ইন্দোনেশিয়ার বন্যা ও ভূমিধ্বসে ৩০৩ জন নিহত হওয়ার সংবাদের সাথে এই ছবি ব্যবহৃত হয়।
আইএনডি টুডে তাদের ২৭ নভেম্বরের প্রতিবেদনে ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার বন্যা পরিস্থিতির খবরে এই ছবি প্রকাশ করে। কিরগিজস্তান ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ওপেন কিরগিজস্তান ১ ডিসেম্বর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বন্যা বিষয়ক প্রতিবেদনে এই ছবি ব্যবহার করে। উগান্ডাভিত্তিক রেডিও স্টেশন ৯৭.৮ কাজো এফএম এর ফেসবুক পেজে ১১ সেপ্টেম্বর এই ছবি ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার বন্যায় ১৯ জন নিহত হওয়ার সংবাদ প্রকাশ করা হয়। কোনো সংবাদেই এসব ছবিকে ফাইল ফুটেজ বা প্রতীকী ছবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
রিভার্স ইমেজ সার্চে ছবির মূল উৎসের সন্ধান পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ১১ মার্চ ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধ্বসে ২৬ জন নিহতের ঘটনায় রয়টার্সের প্রতিবেদনে ছবিটি প্রকাশিত হয়। ছবির ক্যাপশনে রয়টার্স লিখেছে, ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম সুমাত্রা প্রদেশের পাদাং-এ ভারী বৃষ্টির ফলে বন্যায় ডুবে যাওয়া একটি আবাসিক এলাকার ছবি এটি। ড্রোন থেকে তোলা এই ছবিটি ‘আন্তারা ফটো’ ২০২৪ সালের ৮ মার্চ তুলেছে। আন্তারা ফটো ইন্দোনেশিয়ার সংবাদ সংস্থা পেরুম এলকেবিএন আন্তারা-র একটি শাখা। ইন্দোনেশিয়া জুড়ে এই সংস্থার বহু ফটোগ্রাফার কাজ করেন।

অর্থাৎ, একাধিক গণমাধ্যমে ইন্দোনেশিয়ার সাম্প্রতিক বন্যা ও ভূমিধ্বসের ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হলেও ছবিটি গত বছরের মার্চের বন্যায় পশ্চিম সুমাত্রায় তোলা।