
বাংলাদেশে আইপিএল এবং ভারতীয় সকল টিভি চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে – এরকম একটি দাবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, শুধুমাত্র আইপিএলের খেলা সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। তবে ভারতীয় সকল টিভি চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশ সরকার থেকে দেওয়া হয়নি।
ফেসবুকে “বাংলাদেশ জামাত ইসলাম” নামের একটি গ্রুপে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবি সংযুক্ত একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “বাংলাদেশে আইপিএল এবং ভারতীয় সকল টিভি চ্যানেল সম্প্রচার বন্ধ করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টা।”

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা, “ভারতীয় সকল টিভি চ্যানেল বন্ধ ঘোষণা।” পোস্টটির কমেন্টে দেখা যায় অনেক ব্যবহারকারীই দাবিটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এই ভাবেই, ওই চরিত্রহীন ভারতের সঙ্গে সব কিছু বন্ধ করা হবে, ইনশাআল্লাহ।” আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও সকল উপদেষ্টাদের ধন্যবাদ জানাই।”
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩), গ্রুপ থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি প্রচার হতে দেখা যায়।
দাবির সত্যতা যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে একাধিক (১, ২, ৩, ৪) জাতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সামনে আসে ডিসমিসল্যাবের। গত ৫ জানুয়ারি প্রথম আলোর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। আজ সোমবার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে চিঠি দিয়েছে।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “চিঠিতে বলা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আগামী ২৬ মার্চ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই। এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার বা সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”
সকল গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেই মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার পর আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার উল্লেখ আছে। তবে কোনো প্রতিবেদনেই ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধ সম্পর্কিত কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই। এছাড়া ভারতীয় টিভি চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন কোনো জাতীয় গণমাধ্যমে পাওয়া যায়না।
অধিকতর যাচাইয়ে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা উম্মুল খায়ের ফাতেমার সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। তিনি ডিসমিসল্যাবকে জানান ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও তিনি ডিসমিসল্যাবকে একটি তথ্যবিবরণী পাঠান।
বিবরণীতে লেখা, “ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আয়োজিত ও আগামী ২৬ মার্চ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেট খেলোয়াড় মুস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এর সকল খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার/সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে জানানো হয়েছে।” এই তথ্যবিবরণীতে আইপিএল এর সম্প্রচার বন্ধে নির্দেশ দেওয়া থাকলেও ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে কোনো নির্দেশ নেই।
আইপিএল বন্ধে জারিকৃত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। এই বিজ্ঞপ্তিতেও ভারতীয় টিভি চ্যানেল প্রচার বন্ধের কোনো নির্দেশ পাওয়া যায়না।

অর্থাৎ, বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় দিলেও এখনো পর্যন্ত ভারতীয় টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি সরকার থেকে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতীয় সব টিভি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। এ বিষয়ে একাধিক (১, ২, ৩) গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে রিটের বিষয়ে পরবর্তীতে কোনো সংবাদ গণমাধ্যমে পাওয়া যায় না।
প্রসঙ্গত, ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপটে প্রচারিত একাধিক ভুয়া মন্তব্য নিয়ে ফ্যাক্টচেক করেছে।