
বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসার রোমহর্ষক দৃশ্য বলে একটি ভিডিও ছড়াতে দেখা যাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমগুলোতে। ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মূল ভিডিওটি ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের একটি মাদ্রাসার দৃশ্য।
ওয়েব পোর্টাল ব্লিটজ এর সম্পাদক সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে গত ৪ এপ্রিল একটি ভিডিওপোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “বাংলাদেশের একটি মাদ্রাসার ভেতরকার একটি রোমহর্ষক ভিডিও ফুটেজ। এসব জায়গায় যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে, আর যে শিশুরা মোল্লাদের বিকৃত কামনা মেটাতে অস্বীকার করে, তাদের কঠোর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।”

১ মিনিটের ভিডিওতে মাথায় টুপি দেওয়া দুই ব্যক্তিকে দেখা যায়। এর মধ্যে একজন একটি শিশুকে বেত সদৃশ বস্তু দিয়ে পেটাচ্ছে এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি শিশুটিকে ধরে রেখে নিপীড়নে সাহায্য করছে। ভিডিওর একটি অংশে শিশুটিকে কাতরাতেও দেখা যায়।
ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ৫৯ বার রিপোস্ট করা হয়েছে। একই ক্যাপশনে ভিডিওটি ফেসবুকের একজন ব্যবহারকারীকেও পোস্ট করতে দেখা গেছে।
ভিডিওর সূত্র যাচাই করতে গেলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে সাধনা নিউজ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও। গত ৪ এপ্রিলে প্রকাশিত ভিডিওটির সঙ্গে এক্সে পোস্ট হওয়া দৃশ্যের হুবহু মিল দেখা যায়। ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “সাহারানপুরের গাঙ্গোতে মাদ্রাসার ভিডিও ভাইরাল, শিশুকে নির্মমভাবে মারধর।”

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে এই ঘটনা নিয়ে ভারতের একাধিক গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। চলতি মাসের ৪ এপ্রিলে প্রকাশিত টিভি৯ হিন্দির একটি প্রতিবেদনের শিরোনামে লেখা, “শিশুর আর্তনাদ, তবুও ছড়ি দিয়ে পিটিয়েই চললেন মাওলানা… সাহারানপুরের মাদ্রাসায় নিষ্পাপ শিশুর ওপর নির্মম নির্যাতন।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাহারানপুর জেলার গাঙ্গো এলাকার একটি মাদ্রাসায় এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। আরেকটি গণমাধ্যম রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনেও এটিকে উত্তর প্রদেশের সাহারানপুরের ঘটনা বলে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর, গাঙ্গো থানায় বিএনএস-এর ১১৫ ও ১৩১ ধারা, শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা আইন এবং শিশুদের বিনামূল্যে ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার অধিকার আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত জুনায়েদ ও শোয়েবকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
অর্থাৎ, ভিডিওটি ভারতের উত্তর প্রদেশের সাহারানপুর জেলার ঘটনার দৃশ্য, বাংলাদেশের নয়।