
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেয়েছেন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ইমরান খান এখনো রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে আটক আছেন। গতকাল ৩ মার্চ ইসলামাবাদ হাইকোর্টের এক নির্দেশনায়, চিকিৎসার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার আবেদনের শুনানি আগামী ১০ মার্চ নির্ধারণ করা হয়।
ফেসবুকের “মোহাম্মদের হাসির মায়া” নামের একটি পেজ থেকে একটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “মুক্তি পেলেন পাকিস্তানের ইমরান খান! আলহামদুলিল্লাহ।” এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত, ভিডিওটিতে ৫ হাজার ৮০০ বারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শেয়ার হয়েছে ১৮৫ বার। ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪) ব্যক্তিগত প্রোফাইল, গ্রুপ (১, ২, ৩) পেজ থেকে একই দাবিতে পোস্ট করা হয়। ইউটিউবে একাধিক (১, ২) পোস্টে একই দাবি করা হয়। ইনস্টাগ্রামেও একটি পোস্ট পাওয়া যায়।

সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ড সার্চ দিলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের গত ৩ মার্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “১০ মার্চ ইমরান খানের হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদনের শুনানি করবে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট (আইএইচসি)।” প্রতিবেদনে বলা হয়, “ইসলামাবাদ হাইকোর্ট মঙ্গলবার রেজিস্ট্রারের অফিসকে নির্দেশ দিয়েছে, পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের একটি আবেদনের শুনানি যেন ১০ মার্চ নির্ধারণ করা হয়। ওই আবেদনে তিনি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে চিকিৎসার অনুমতি চেয়েছেন।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, “আইএইচসি (ইসলামাবাদ হাইকোর্ট) তোষাখানা ফৌজদারি মামলার মূল আপিলটিও ১০ মার্চ শুনানির জন্য নির্ধারণ করেছে যে মামলায় পিটিআই এর প্রতিষ্ঠাতা ২০২৩ সালের ৫ আগস্ট প্রথম গ্রেফতার হয়েছিলেন।”

এছাড়া আজ, ৪ মার্চ, ডনের প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে ইমরান খানের বোন আলিমা খানের বক্তব্য উল্লেখ করা হয়। এ প্রতিবেদনে বলা হয়, “মিস আলিমা তার অন্য বোনদের নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে আদিয়ালা জেলের বাইরে পৌঁছান, কিন্তু জেল প্রশাসন তাদের বাধা দেয়। তিনি বলেন, গত চার দশক ধরে দেশ সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে।” প্রতিবেদনে অনুযায়ী, মিস আলিমা আরও জানান তারা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের চেয়ে তার চিকিৎসার বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মিস আলিমা চান পিটিআই প্রতিষ্ঠাতাকে যেন তার নিজস্ব চিকিৎসকদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষার করার অনুমতি দেওয়া হয়।
অর্থাৎ, ইমরান খান মুক্তি পাওয়ার দাবিটি সত্য নয়। তিনি তোশাখানা ভুয়া রশিদের মামলাসহ আরও পাঁচটি মামলায় জামিন পেলেও চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে যেতে পারবেন কিনা তা আগামী ১০ মার্চে আদালত জানাবেন। বর্তমানে তিনি কারাগারেই আছেন।
প্রসঙ্গত, ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবি তোশাখানা ভুয়া রসিদ মামলায় জামিন পেয়েছেন। ইসলামাবাদের একটি আদালত পাকিস্তান ইমরান খানকে আরও পাঁচটি মামলায়ও জামিন মঞ্জুর করেছে, যার মধ্যে হত্যাচেষ্টা ও সেনাবাহিনীকে মানহানির অভিযোগ সম্পর্কিত মামলাও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের এপ্রিলে বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। দুর্নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদ- বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। ইমরান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দুর্নীতির দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।