
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম ও মোয়াজ্জেমকে মারধর করা হচ্ছে দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ভারতের ভিন্ন ঘটনার। স্কুটারের জন্য রাস্তা না ছাড়ায় তিন মুসলিমকে মারধরের ঘটনাকে ভিন্ন দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।
“বাংলাদেশ লাইভ” নামের ফেসবুক পেজ থেকে ২০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে ভেতরে লেখা হয়, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম মোয়াজ্জেমকে মারধর।” ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক টুপি-পাঞ্জাবি পরা তিন ব্যক্তিকে মারধর করছেন।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৪০ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে। অন্তত দুই হাজারবার এটি শেয়ার করা হয়েছে। কিছু মন্তব্যে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায় তারা একে বাংলাদেশের ঘটনা বলে মনে করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “মাবুদ গো এদের বিচার তুমি নিজ হাতে করতে পারো না।” আরেকজন লিখেছেন, “তারেক রহমানের বাংলাদেশ বলে কথা আই হ্যাভ এ প্ল্যান।”
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করা হয়। এতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ “হেট ডিটেক্টর” নামের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টে থাকা প্রথম ভিডিওর ৩২ সেকেন্ড থেকে ৫২ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে আলোচিত ২০ সেকেন্ডের ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। এক্সে প্রকাশিত ওই পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, ভারতের উত্তর প্রদেশে বাদায়ুন জেলার ঘটনা এটি। ক্যাপশনে আরও বলা হয়, অক্ষয় কুমার নামের একজন যুবক স্কুটার চালিয়ে যাওয়ার সময় তিন মুসলিম ব্যক্তি রাস্তার পাশে সরে না দাঁড়ানোয় অক্ষয় তাদেরকে চড় মারেন ও গালিগালাজ করেন।
অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের বাদায়ুনের ইসলামনগর এলাকায় স্কুটারের জন্য রাস্তা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।

আবদুল সালাম ও তার দুই বন্ধু রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে অক্ষয় কুমার ওরফে ছোটু নামের এক যুবক স্কুটার নিয়ে এসে হর্ন বাজান। স্কুটারের জন্য সরে না যাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং অক্ষয় ওই তিন মুসলিম ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে চড় মারেন ও গালিগালাজ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।
অর্থাৎ, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করার কারণেও কোনো ইমাম বা মোয়াজ্জেমকে মারধরের ঘটনা এক্ষেত্রে ঘটেনি। এটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি ভিন্ন ঘটনার ভিডিও।