মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
This article is more than 2 months old
Fact-check: Viral video claiming imam and muezzin were beaten in Bangladesh for preaching against extortion is actually from Uttar Pradesh, India, linked to a road altercation.

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় মারধরের দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের

মো. তৌহিদুল ইসলাম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম ও মোয়াজ্জেমকে মারধর করা হচ্ছে দাবিতে একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি ভারতের ভিন্ন ঘটনার। স্কুটারের জন্য রাস্তা না ছাড়ায় তিন মুসলিমকে মারধরের ঘটনাকে ভিন্ন দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।  

“বাংলাদেশ লাইভ” নামের ফেসবুক পেজ থেকে ২০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে ভেতরে লেখা হয়, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করায় ইমাম মোয়াজ্জেমকে মারধর।” ভিডিওতে দেখা যায়, এক যুবক টুপি-পাঞ্জাবি পরা তিন ব্যক্তিকে মারধর করছেন। 

Fact-check: Viral video claiming imam and muezzin were beaten in Bangladesh for preaching against extortion is actually from Uttar Pradesh, India, linked to a road altercation.
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ভিডিও পোস্টের স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৪০ হাজারের বেশি দেখা হয়েছে। অন্তত দুই হাজারবার এটি শেয়ার করা হয়েছে। কিছু মন্তব্যে ব্যবহারকারীদের প্রতিক্রিয়া দেখে বোঝা যায় তারা একে বাংলাদেশের ঘটনা বলে মনে করছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, “মাবুদ গো এদের বিচার তুমি নিজ হাতে করতে পারো না।” আরেকজন লিখেছেন, “তারেক রহমানের বাংলাদেশ বলে কথা আই হ্যাভ এ প্ল্যান।”


ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কয়েকটি কিফ্রেম রিভার্স সার্চ করা হয়। এতে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ “হেট ডিটেক্টর” নামের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। পোস্টে থাকা প্রথম ভিডিওর ৩২ সেকেন্ড থেকে ৫২ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে আলোচিত ২০ সেকেন্ডের ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। এক্সে প্রকাশিত ওই পোস্টের ক্যাপশন অনুযায়ী, ভারতের উত্তর প্রদেশে বাদায়ুন জেলার ঘটনা এটি। ক্যাপশনে আরও বলা হয়, অক্ষয় কুমার নামের একজন যুবক স্কুটার চালিয়ে যাওয়ার সময় তিন মুসলিম ব্যক্তি রাস্তার পাশে সরে না দাঁড়ানোয় অক্ষয় তাদেরকে চড় মারেন ও গালিগালাজ করেন। 

অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ফ্রি প্রেস জার্নালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি উত্তরপ্রদেশের বাদায়ুনের ইসলামনগর এলাকায় স্কুটারের জন্য রাস্তা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটে।

Fact-check: Viral video claiming imam and muezzin were beaten in Bangladesh for preaching against extortion is actually from Uttar Pradesh, India, linked to a road altercation.
মূল ঘটনার বিষয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

আবদুল সালাম ও তার দুই বন্ধু রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় পিছন থেকে অক্ষয় কুমার ওরফে ছোটু নামের এক যুবক স্কুটার নিয়ে এসে হর্ন বাজান। স্কুটারের জন্য সরে না যাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং অক্ষয় ওই তিন মুসলিম ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে চড় মারেন ও গালিগালাজ করেন। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে।

তবে পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’র প্রতিবেদনে এই ঘটনার অন্য ব্যাখ্যা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বাদাউনের রুদায়ন শহরে রমজান মাস উপলক্ষ্যে মাদ্রাসার জন্য ‘যাকাত’ বা অনুদান সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন সহসওয়ানের বাসিন্দা আবদুল সালাম (৬০), মো. আরিফ (৩৫) এবং জাভেদ খান (৫৫)। এ সময় অভিযুক্ত স্কুটার আরোহী অক্ষয় কুমার (২৪) তাদের পথ আটকে নাম জিজ্ঞাসা করে।

অনুদান সংগ্রহের কথা জানতে পেরে সে তাদের গালিগালাজ শুরু করে এবং জাভেদের টুপি খুলে ফেলে। এরপর সে ওই তিন বয়স্ক ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে চড়-থাপ্পড় মারে এবং প্রায় ৫০০ মিটার পর্যন্ত তাড়া করে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বাদাউন পুলিশ অভিযুক্ত অক্ষয়কে গ্রেফতার করে। পরে তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে।

অর্থাৎ, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ওয়াজ করার কারণেও কোনো ইমাম বা মোয়াজ্জেমকে মারধরের ঘটনা এক্ষেত্রে ঘটেনি। এটি ভারতের উত্তরপ্রদেশের একটি ভিন্ন ঘটনার ভিডিও। 

আরো কিছু লেখা