নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব
Fact-check: Viral video falsely claiming Benjamin Netanyahu’s brother Iddo Netanyahu was killed in an Iranian missile attack actually shows a house fire in Galloway Township, New Jersey.

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই নিহতের দাবিতে ছড়াচ্ছে পুরোনো ভিডিও

নোশিন তাবাসসুম

রিসার্চ অফিসার, ডিসমিসল্যাব

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন দাবিতে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, ভিডিওটি পুরোনো এবং মূল ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের। স্থানীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি বাড়িতে আগুন লাগার দৃশ্য। এছাড়া, ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহতের কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও পাওয়া যায়নি অনলাইনে।

ফেসবুকে “নাফ নিউজ বিডি” নামের একটি পেজ থেকে আজ ১০ মার্চ একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “নেতানিয়াহুর পারিবারিক বাড়িতে ইরানের ক্ষে’পণাস্ত্র হা/ম/লায় বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নি/হ/ত হয়েছেন।”

Fact-check: Viral video falsely claiming Benjamin Netanyahu’s brother Iddo Netanyahu was killed in an Iranian missile attack actually shows a house fire in Galloway Township, New Jersey.
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুকে ছড়ানো ভিডিওসহ পোস্টের স্ক্রিনশট।

পোস্টটির মন্তব্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনেকেই দাবিটিকে সত্য মনে করছেন। এক মন্তব্যকারী লিখেছেন, “মারা গিয়েছে এই টা ১০০ সত্যি, আজ ভোর ৪ টায় মারা গেছে।” আরেকজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “সত্যি হয়ে থাকলে আলহামদুলিল্লাহ।” 

এছাড়া, একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (, ) এবং পেজ থেকে একই দৃশ্যের ভিডিও অভিন্ন দাবিতে পোস্ট করতে দেখা যায় ফেসবুকে। 

ভিডিওতে দেখা যায়, একটি দোতলা বাড়ির ছাদে আগুন জ্বলছে এবং দমকল বাহিনীর গাড়ি থেকে আগুন নেভানোর চেষ্টায় পানি দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওর একদম শেষের দিকে, ইদ্দো নেতানিয়াহুর একটি ছবিও দেখা যায়। 

ছড়িয়ে পড়া দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ফেসবুকে পোস্ট করা একটি ভিডিও সামনে আসে। এইচসিবি ফটোগ্রাফি নামের পেজ থেকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি সেটি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা, “বর্তমানে যা ঘটছে: পার্ক প্লেস, গ্যালওয়ে, এনজে রাত ১০:৪৭ | ১৬° | #২/৩।” ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সঙ্গে এ ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। 

Fact-check: Viral video falsely claiming Benjamin Netanyahu’s brother Iddo Netanyahu was killed in an Iranian missile attack actually shows a house fire in Galloway Township, New Jersey.
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির গ্যালওয়ে টাউনশিপে একটি বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনার আসল ভিডিওর স্ক্রিনশট।

এরপর সংশ্লিষ্ট কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখা যায়, একই ঘটনা নিয়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম হিসেবে পরিচয় দেওয়া “ব্রেকিংএসি ডটকম।” প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “সর্বশেষ তথ্য: রবিবারের গ্যালওয়ে অগ্নিকাণ্ডে কেউ আহত হয়নি।” সেখানে বলা হয়, “গ্যালওয়ে টাউনশিপের একটি বাড়িতে রবিবার রাত থেকে সোমবার সকালের মধ্যে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। গ্যালওয়ে টাউনশিপ পুলিশের তথ্যমতে, প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং ওই এলাকা ও তার চারপাশে বরফ ও তুষার জমে থাকায় অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের কাজ করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছিল।” 

Fact-check: Viral video falsely claiming Benjamin Netanyahu’s brother Iddo Netanyahu was killed in an Iranian missile attack actually shows a house fire in Galloway Township, New Jersey.
নিউ জার্সির গ্যালওয়ে টাউনশিপে বাড়িতে আগুন লাগার ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট।

ব্রেকিংএসি ডটকমের প্রতিবেদনে ব্যবহার করা ছবিটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ছবি এবং ভিডিওর মিল রয়েছে। এছাড়াও ছবিটির ক্যাপশনে সূত্র হিসেবে এইচসিবি ফটোগ্রাফি লেখা রয়েছে। 

একই ভিডিওর একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনও পাওয়া যায় অনলাইনে। ভেরিফাইএসওয়াই নামের তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের এক প্রতিবেদনে বলা হয় ভিডিওটি যুক্তরাষ্ট্রের এবং এর সঙ্গে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বাসায় আগুন লাগার কোনো সম্পর্ক নেই। 

প্রসঙ্গত, চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সংঘাতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছোট ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে (, , )। জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক স্কট রিটের বরাতে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম সূত্রে প্রতিবেদনগুলো প্রকাশিত হয়। তবে, ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহতের বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি এবং আন্তর্জাতিক কোনো সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনেও এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। 

আরো কিছু লেখা