সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব
কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়

কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে গত ২১ জানুয়ারি একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে দাবি করা হয় কুমিল্লা–৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। ফেসবুকে একাধিক পোস্টে বিএনপির এই প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার দাবিটি প্রচার করা হয়। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটি সম্পাদিত এবং দাবিটিও সঠিক নয়। গত ২১ শে জানুয়ারি কুমিল্লা-৪ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ফেসবুকে ২১ জানুয়ারিতে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আকাশ টিভি ২৪ ডট কমের আদলে ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “কুমিল্লা -(৪) দেবিদ্বার আসনে বিএনপির প্রার্থী  মন্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন বৈধ-হাইকোর্ট” (বানান অপরিবর্তিত)। পোস্টের বিবরণে লেখা, “আলহামদুলিল্লাহ, কুমিল্লা ৪ মুন্সি মনোনয়ন বৈধ হাসনাত আবদুল্লাহ বাকিটা ভোটের মাঠে হবে🔥” (বানান অপরিবর্তিত)।

কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়
ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এছাড়া ফেসবুকে একই দাবিতে একাধিক ভিডিও (, , , , , )  এবং পোস্ট (, , , ) ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে  মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বলছেন, “আল্লাহতায়ালার কাছে শুকর গুজার করি যে আমার নমিনেশন চূড়ান্তভাবে এই মুহূর্তে রিটার্নিং অফিসার সঠিক বলে ঘোষণা করেছেন। এখন আল্লাহর কাছে হাজার শুকর যে দেবিদ্বারবাসীদের উপরে আমার মাধ্যমে রহমত বর্ষণ করার জন্য হয়তো আমার এই নমিনেশন বৈধ ঘোষণা করেছেন।” ভিডিওর নিচে বাম কোণে এই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহর একটি ছবিও দেওয়া।

কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়
একই ভুয়া দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ১ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ৯০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে সাড়ে ৫ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা পোস্টে পাঁচ শর বেশি মন্তব্য করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “যুদ্ধ জয় করতে পারার জন্য আপনাকে ধন্যাবাদ”, আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “দেবিদ্বারের  উন্নয়ন মঞ্জুর মুন্সী”।

ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের সত্যতা যাচাই করতে আকাশ টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে ২১ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা, “কুমিল্লা -(৪) দেবিদ্বার আসনে বিএনপির প্রার্থী মন্জুরুল আহসান মুন্সির মনোনয়ন অবৈধ -হাইকোর্ট”।  অর্থাৎ, আকাশ টিভির নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।

অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করতে গেলে গত ১১ জানুয়ারি একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ক্যাপশনে লেখা, “আলহামদুলিল্লাহ আপিল সুনানিতে মুন্সি ভাই মনোনয়ন ফিরে পেয়েছে।” অর্থাৎ, এই ভিডিওটি ২১ জানুয়ারির নয় এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার দাবির সঙ্গে এটির কোনো সম্পর্ক নেই।

মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নের ব্যাপারে বিস্তারিত যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। একাধিক গণমাধ্যমে (, , , ) এ ব্যাপারে প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দেখা যায়। প্রথম আলোতে সম্প্রতি প্রকাশিত  প্রতিবেদন অনুযায়ী, “প্রার্থিতা ফিরে পেতে মনোনয়নপত্র বাতিলের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।” মঞ্জুরুল আহসানের করা রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ২১ জানুয়ারি এ আদেশ দেন।

কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর করা রিট সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।

অর্থাৎ, হাইকোর্ট বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন শীর্ষক দাবিটি ভুয়া।

প্রসঙ্গত, গত ১৭ জানুয়ারি কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন একই আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি আপিলে অভিযোগ করেছিলেন, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। গত ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিলনায়তনে শুনানি শেষে হাসনাত আবদুল্লাহর আপিল মঞ্জুর করে ইসি। এতে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণা করা হয়।

আরো কিছু লেখা