
হাসনাত আব্দুল্লাহর বাসায় সেনাবাহিনীর তল্লাশিতে তিনজন আটক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। ভিডিওটি গত ৯ ফেব্রুয়ারি সাভারে যৌথবাহিনীর অভিযানের একটি দৃশ্য। এ ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় নেতা গালিব ইমতিয়াজ নাহিদসহ ৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছিল।
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে লেখা হয়েছে, “এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লার বাসায় সেনাবাহিনীর তল্লাশি অস্ত্র সহ আটক ৩।” ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ভিডিওতে সেনাবাহিনীর একটি দলকে তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার করতে দেখা যায়। ভিডিওর ক্যাপশনেও একই দাবি করতে দেখা যায়।

এ পর্যন্ত ভিডিওটি ৭১ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে, শেয়ার করা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচশত বার। একজন মন্তব্য করেছেন, “হাসনাত আবদুল্লাহকে আইনের আওতায় আনা হউক। আইন সকলের জন্য সমান।”। আরেকজন লিখেছেন, “অপরাধ যে করুক শাস্তি পেতে হবে”।
ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ে কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, দৈনিক ইত্তেফাকের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে একটি ভিডিও খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “সাভারে অস্ত্র-গুলিসহ তিন সন্ত্রাসীকে আটক করেছে সেনাবাহিনী”। একই ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায় এটিএন বাংলার ফেসবুক ও স্টার নিউজের ইউটিউব হ্যান্ডলে।

১ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডের এসব ভিডিওর সাথে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু মিল রয়েছে। মূল ভিডিওর শেষে আরও দেখা যায়, সেনাবাহিনী কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। আটকের এই অংশ বাদ দিয়ে ১ মিনিট ২ সেকেন্ডের ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়েছে হাসনাত আব্দুল্লাহর বাসায় সেনাবাহিনীর তল্লাশি দাবিতে।
কিওয়ার্ড সার্চে এ ঘটনায় একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও (১, ২) পাওয়া যায়। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভার এলাকায় চাপাইন রোডের তালতলা এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএম গালিব ইমতিয়াজ নাহিদও রয়েছেন।
অর্থাৎ, সাভারে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা গ্রেপ্তারের ভিডিও ছড়াচ্ছে হাসনাত আব্দুল্লাহর বাসায় সেনাবাহিনীর তল্লাশি দাবিতে।
উল্লেখ্য, এর আগেও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতার গ্রেপ্তারের একই ভিডিও প্রচার করে কেন্দ্রীয় শিবিরের নেতা গ্রেপ্তারের দাবি করা হয়েছিল, যার ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।