
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দুর্ঘটনা কবলিত একটি ট্রেন থেকে তেল সংগ্রহের ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে সিলেটগামী এই তেলভর্তি ট্রেন হবিগঞ্জে থামিয়ে ৪টি ট্যাংক থেকে তেল লুট করছে স্থানীয় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ভিডিওটি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকায় একটি তেলবাহী ট্রেনের লাইনচ্যুতের ঘটনা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১ এপ্রিল রাতে তেলবাহী ট্রেনের ৬টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায়। তবে কোনো গণমাধ্যমেই তেল সংগ্রহে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করা হয়নি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১ এপ্রিল একটি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “হবিগঞ্জে সিলেটগামী তেলভর্তি ট্রেন থামিয়ে ৪টি ট্যাংক থেকে তেল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় এন সি পি ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা।” ৩০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি থেমে থাকা ট্রেনের ওয়াগন থেকে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি বোতল, বালতি ভরে তেল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন। ১৬ সেকেন্ড অংশে ওয়াগনটির একাংশ দেখা যায়।

ফেসবুকের একাধিক (১, ২) ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকেও একই দাবিতে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।
ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির কিফ্রেম নিয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক ভিডিও প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪) খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। বৈশাখী টেলিভিশন গত ১ এপ্রিল তাদের ফেসবুক পেজে একই দৃশ্যের একটি ভিডিও পোস্ট করে। ২১ সেকেন্ডের সেই ভিডিওটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্য পুরোপুরি মিলে যায়। দুটি ভিডিওতেই থেমে থাকা ট্রেনের ওয়াগন, মানুষের হাতে থাকা বোতল, বালতির রঙেরও মিল পাওয়া যায়।
একাধিক (১, ২, ৩, ৪) সংবাদমাধ্যম এ ঘটনা নিয়ে অনলাইন প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছে। তবে কোনো গণমাধ্যমেই তেল সংগ্রহে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা উল্লেখ করা হয়নি।
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী তেলবাহী ট্রেন হবিগঞ্জের মাধবপুরে মনতলা স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছালে ট্রেনের অন্তত ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে রেললাইন থেকে নিচে পড়ে যায়। ১ এপ্রিল রাত নয়টার দিকে উপজেলার মনতলা রেল স্টেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পরপরই ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকারগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে জ্বালানি তেল বেরিয়ে পার্শ্ববর্তী কৃষি জমি, সড়ক ও নিকটস্থ খালে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এতে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, “দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত মানুষ বালতি, ড্রাম ও বিভিন্ন পাত্র নিয়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে সরাসরি লাইনচ্যুত বগির মুখ খুলে তেল বের করার চেষ্টা করছেন।”
অর্থাৎ, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেন থেকে তেল সংগ্রহের ভিডিও ছড়াচ্ছে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের ট্রেন থামিয়ে লুটের দাবিতে; যা সঠিক নয়।