
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমদ আসন্ন নির্বাচন নিয়ে বার্তা দিয়েছেন, এমন দাবিতে যমুনা টিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়িয়েছে। ফটোকার্ডে বলা হচ্ছে, সাবেক প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষের হাতে আবার সুযোগ এসেছে দুই পরিবারের গোলামী থেকে মুক্তি লাভের।” তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেক বলছে, এমন কোনো ফটোকার্ড যমুনা টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ প্রকাশ করেনি।
ফেসবুকে একটি গ্রুপ থেকে গত ১০ ফেব্রুয়ারি একটি ফটোকার্ড পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “বাংলাদেশের মানুষের হাতে আবার সুযোগ এসেছে দুই পরিবারের গোলামী থেকে মুক্তি লাভের”। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “এই সুযোগ হাতছাড়া করলে ১০০ বছরেও আসবে না॥” (বানান অপরিবর্তিত)। ফটোকার্ডটিতে বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দীন আহমেদ ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ১৭বার শেয়ার করা হয়েছে, প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে ১৯৩টি। ব্যবহারকারীদের ১০টি মন্তব্য দেখা যায়। পোস্টে একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এই বাংলার মানুষ মহান স্বাধীনতাকে রক্ষা করুন”। এছাড়াও একাধিক (১, ২) ব্যক্তিগত প্রোফাইল এবং গ্রুপ থেকেও ফটোকার্ডটি প্রচার করা হয়।
প্রচারিত ফটোকার্ডটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যমুনা টিভির ফটোকার্ডগুলোর সাথে লেখার ফন্ট এবং আকারেও কিছু অমিল পাওয়া যায়। যমুনা টিভির ফটোকার্ডগুলোতে লাল রঙের ব্যাকগ্রাউন্ডের উপর সাদা রঙের ফন্টে লেখা হয়ে থাকে। কোনো ব্যক্তির উক্তিকে হাইলাইট করা হলে সেই ব্যক্তির নামটি হালকা হলুদ রঙের ফন্টে বোল্ড করা হয়। পাশাপাশি ফটোকার্ডগুলোতে যমুনা টিভির জলছাপ দেওয়া থাকে। তবে প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ফন্টের রং সাদা হলেও আকার এবং ফন্ট স্টাইলে যমুনা টিভির ফটোকার্ডগুলোর সাথে ভিন্নতা দেখা যায়।

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে যমুনা টিভির এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো এবং ওয়েবসাইটের প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে এই রঙের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে সংবাদমাধ্যমটির সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। যমুনা টিভির নিউ মিডিয়া বিভাগের সম্পাদক রুবেল মাহমুদ ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেছেন, এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন তারা প্রকাশ করেননি।
অর্থাৎ, যমুনা টিভির নামে ছড়ানো এই ফটোকার্ডটি ভুয়া।