
মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী বলছেন, নিরাপদ দেশ চান তিনি। আর এ কারণে চাঁদাবাজ নয়, ধর্ম ব্যবসায়ীদের চাইছেন ক্ষমতায়। সম্প্রতি ফেসবুকে আরটিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে এমন এক বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এমন কোনো ফটোকার্ড আরটিভি প্রকাশ করেনি।
ফেসবুকে একটি গ্রুপ থেকে গত ৬ ফেব্রুয়ারি একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। ফটোকার্ডের ছবিতে বাংলাদেশি মডেল ও অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর ছবি দেখা যাচ্ছে। ফটোকার্ডের ভেতরে লেখা, “ধর্ম ব্যবসা করতে মানুষ খুন করা লাগে না। কিন্তু চাঁদাবাজি করতে মানুষ খুন করা লাগে। সুতরাং ধর্ম ব্যবসায়ীরাই নিরাপদ। আমরা নিরাপদ দেশ চাই।”

ফটোকার্ডের উপরের অংশে “২১ জানুয়ারি ২০২৬” তারিখ এবং নিচে বামপাশে আরটিভির লোগো দেওয়া। ডান পাশে কিউআর কোড দেওয়া। ফটোকার্ডের নিচদিকে মাঝামাঝি স্থানে ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া আছে। ফটোকার্ডটিতে সাদা এবং হালকা হলুদ রঙের ফন্ট ব্যবহার করা হয়েছে।
এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ফটোকার্ডটিতে ২২টি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আরেকটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে ভিন্ন একজনের ছবি ব্যবহার করে একই লেখা যুক্ত আরেকটি ফটোকার্ড ১৫ সেকেন্ডের ভিডিও আকারে প্রচার করা হয়েছে গত ২ ফেব্রুয়ারি। সে পোস্টে ৯টি প্রতিক্রিয়া ছিল।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে কোনো গণমাধ্যমে মেহজাবীন চৌধুরীর এমন বক্তব্য খুঁজে পায়নি ডিসমিসল্যাব। এছাড়া মেহজাবীন চৌধুরীর অফিশিয়াল ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলেও এমন কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে আরটিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবংওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত ২১ জানুয়ারির সব ফটোকার্ড ও পোস্ট যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। নির্দিষ্ট এই তারিখে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীর ছবি সম্বলিত প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ব্যবহৃত কিউআর কোডটি স্ক্যান করলে অন্য একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম “মারা গেছেন কিংবদন্তি চিত্রনায়ক জাভেদ”।
এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আরটিভির সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। সংবাদমাধ্যমটির অনলাইন ইনচার্জ আবু আজাদ ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেছেন এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদন প্রকাশ করেননি তারা।
অর্থাৎ, মেহজাবীন চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করে আরটিভির ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া।