সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব
Fact-check shows fake Prothom Alo and Ittefaq-branded photocards falsely linking BNP and Chhatra Dal to threats against Hindus and comments on banning mobile phones at polling centers during Bangladesh elections.

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপিকে জড়িয়ে একাধিক গণমাধ্যমের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয়তবাদী দলকে (বিএনপি) জড়িয়ে দৈনিক প্রথম আলো এবং দৈনিক ইত্তেফাকের লোগোযুক্ত দুইটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। প্রথম আলোর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে বলা হয়েছে, বিএনপিকে ভোট না দিলে হিন্দুদের হত্যার হুমকি দিয়েছে ছাত্রদল নেতা। অন্যদিকে দৈনিক ইত্তেফাকের নামে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে (সিইসি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী  মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, উভয় গণমাধ্যমের নামে প্রচারিত ফটোকার্ড দুইটি ভুয়া। 

Fact-check shows fake Prothom Alo and Ittefaq-branded photocards falsely linking BNP and Chhatra Dal to threats against Hindus and comments on banning mobile phones at polling centers during Bangladesh elections.
ভুয়া দাবিতে ফেসবুকে প্রথম আলো ও ইত্তেফাকের ফটোকার্ড নিয়ে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

১ম ফটোকার্ড

ফেসবুকে লাইভ টিভি নামে একটি পেজ থেকে গত ২৬ জানুয়ারি প্রথম আলোর লোগোযুক্ত ফটোকার্ডটি ছড়িয়ে পড়ে। কার্ডের ভেতরে অস্ত্র হাতে এক যুবকের ছবি দেখা যাচ্ছে। শিরোনামে লেখা, “হিন্দুদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছাত্রদল নেতার হুমকি ধানের শীষে ভোট না দিলে ঘরের ভেতরে ঢুকে মেরে ফেলব।”

Fact-check shows fake Prothom Alo and Ittefaq-branded photocards falsely linking BNP and Chhatra Dal to threats against Hindus and comments on banning mobile phones at polling centers during Bangladesh elections.
ভুয়া দাবিতে প্রথম আলোর লোগো নকল করে তৈরি ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

কার্ডের উপরের দিকে ডান কোণায় প্রথম আলোর লোগো দেওয়া আছে এবং মাঝামাঝি লেখা, “বাংলাদেশ। ২৬ জানুয়ারি ২০২৬’’। কার্ডের নিচে মাঝ বরাবর প্রথম আলোর ওয়েবসাইটের ঠিকানা উল্লেখ করা রয়েছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা,“ছাত্রদল নেতার হুমকি”। ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ (, , ) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ২৬ জানুয়ারির সব ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সংবাদমাধ্যমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সেদিন খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া প্রথম আলোর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলেও এধরনের কোনো প্রতিবেদন মেলেনি।

Fact-check shows fake Prothom Alo and Ittefaq-branded photocards falsely linking BNP and Chhatra Dal to threats against Hindus and comments on banning mobile phones at polling centers during Bangladesh elections.
ভুয়া ফটোকার্ড (বামে) ও আসল ফটোকার্ড (ডানে)

তবে, গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি একই ছবিযুক্ত একটি ফটোকার্ড প্রকাশিত হতে দেখা যায়। তবে সেই ফটোকার্ডে সাদা ও হলুদ রঙের  হরফে শিরোনামে লেখা, “‘সন্ত্রাসীর’ হুমকি’ ৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে তোকে মেরে ফেলব’।”

প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদকের ফোনে এক সন্ত্রাসীর দেওয়া হত্যার হুমকির ঘটনা এটি। অর্থাৎ, প্রথম আলোর মূল ফটোকার্ডের শিরোনামটি সম্পাদিত করেই প্রচারিত ফটোকার্ডের শিরোনামটি বসানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে নিশ্চিত হতে, প্রথম আলোর ডেপুটি হেড অব রিপোর্টিং (অনলাইন) রাজীব আহমেদের সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। তিনি ডিসমিসল্যাবকে জানান, হিন্দুদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ছাত্রদলনেতার হুমকির দাবিতে ছড়ানো ফটোকার্ডটি প্রথম আলোর নয়।

অর্থাৎ, হিন্দুদের বাড়িতে গিয়ে ধানের শীষে ভোট দেওয়া প্রসঙ্গে ছাত্রদল নেতার হুমকির দাবিতে প্রচারিত প্রথম আলোর নামে ফটোকার্ডটি ভুয়া এবং সম্পাদিত।

২য় ফটোকার্ড

ফেসবুকের একটি গ্রুপ থেকে গত ৯ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার লোগোযুক্ত ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। কার্ডের ভেতরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) এর ছবি এবং বিএনপির দলীয় পতাকা সংযুক্ত করা। কার্ডের শিরোনামে লেখা, “ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ: সিইসিকে ধন্যবাদ বিএনপির’’।

Fact-check shows fake Prothom Alo and Ittefaq-branded photocards falsely linking BNP and Chhatra Dal to threats against Hindus and comments on banning mobile phones at polling centers during Bangladesh elections.
ভুয়া দাবিতে ইত্তেফাকের লোগো নকল করে তৈরি ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট

ছবির নিচে ডান দিকে দৈনিক ইত্তেফাকের লোগো দেওয়া আছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “কারচুপি ছাড়া জেতা অসম্ভব জেনে তারা এই পথে এসেছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হবেনা ইনশাআল্লাহ।’’ এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ফটোকার্ডটিতে প্রায় ৪০০ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং ফটোকার্ডটি ১৩০ এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও গ্রুপ (, , , ) থেকে একই ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে দৈনিক ইত্তেফাকের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক  সংবাদমাধ্যমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া  ইত্তেফাকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেলেও এ ধরনের কোনো প্রতিবেদন মেলেনি। 

ফটোকার্ডটি সম্পর্কে জানতে সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। ইত্তেফাকের অনলাইন ইনচার্জ শরাফত হোসেন ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেন প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

এছাড়া, বিএনপির অফিশিয়াল পেজ এবং মিডিয়া সেলের পেজ থেকে এমন কোনো বক্তব্য প্রকাশ হতে দেখা যায়নি। মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম) নামযুক্ত দুটি পেজ (, ) তার পক্ষে নিয়মিত প্রচারণা চালাতে দেখা যায়। পেজ দুইটি পর্যালোচনা করেও এ ধরনের কোনো বক্তব্য প্রচার হতে দেখা যায়নি।

অর্থাৎ, ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে সিইসিকে বিএনপি ধন্যবাদ জানিয়েছে শীর্ষক দাবিতে ইত্তেফাকের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

আরো কিছু লেখা