সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব
Fact-check showing fake Amar Desh photocards falsely claiming Jamaat-e-Islami ameer Dr Shafiqur Rahman sought to form a government with BNP and received female bodyguards, shared on Facebook.

আমার দেশের নামে জামায়াত ইসলামী সম্পর্কে ফটোকার্ড দুটি ভুয়া

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব

বিএনপির সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠন করতে চায় জামায়াত। ফেসবুকে সংবাদমাধ্যম আমার দেশের নামে ছড়ানো একটি ফটোকার্ডে এমন দাবি করা হয়েছে। আরেকটি ফটোকার্ডে বলা হয়েছে, গানম্যানসহ মহিলা দেহরক্ষী পেয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা গেছে, দুটি ফটোকার্ডই ভুয়া।

১ম ফটোকার্ড

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ১৪ জানুয়ারি প্রথম ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। সংবাদমাধ্যম আমার দেশের আদলে তৈরি সেই ফটোকার্ডের ছবিতে দেখা যাচ্ছে একটি কক্ষের ভেতরে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা.শফিকুর রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদসহ প্রমুখ নেতাকর্মীরা বৈঠক করছেন।

ফটোকার্ডের ভেতরে লাল ও কালো হরফে লেখা, “বিএনপির সাথে আলোচনা করে সরকার গঠন করতে চায় জামায়াত। তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতে জামায়াতের আমীর এ কথা বলেন।” ফটোকার্ডের উপরের অংশে আমার দেশ পত্রিকার লোগো দেখা যাচ্ছে। নিচে ডানদিকে “১৪ জানুয়ারি ২০২৬” এবং বামদিকে সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া আছে।

ফটোকার্ডের সঙ্গে ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “অ তাই। কদিন আগে দেখলাম কোলাকুলি করছে। আবার দেখলাম মিটিং ও করছে। তারপর দেখলাম সাংবাদিকদের লগে এগুলো বললো। মানে আসলে কোনটা বিশ্বাস করবো? জামায়াত আসলে কি চায়?” 

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ফটোকার্ডটি  ৭০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে এবং কার্ডে সাড়ে পাঁচ শর বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোস্টে মন্তব্য করেছেন প্রায় দেড় শ ব্যবহারকারী। একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “যে করেই হোক ক্ষমতা লাগবে”,  আরেকজনের মন্তব্য, “তার কিছুদিন পূর্বে ৩০ আসন ভিক্ষা চাইছে বিএনপির কাছে জামাত ইসলাম।” ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (, , , , , ) থেকে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।

প্রচারিত ফটোকার্ডে শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গে আমার দেশ পত্রিকার ফটোকার্ডের ফন্টের পার্থক্য দেখা যায়। আরও বিস্তারিত জানতে আমার দেশের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারির সব ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো খুঁজে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে নির্দিষ্ট এই তারিখে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা খবর সংবাদমাধ্যমটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

আরও বিস্তারিত যাচাইয়ে ফটোকার্ডে থাকা ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি সংবাদমাধ্যম বাংলাভিশনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক ও সহমর্মিতা জানাতে তারেক রহমানের সঙ্গে জামায়াত আমীরের সাক্ষাৎ”।

প্রতিবেদনে বলা হয়, “সাক্ষাৎ শেষে জামায়াত আমির বলেন, অতীতে আমরা একসাথে কাজ করেছি ভবিষ্যতেও করতে পারি। একসাথে আগামী ৫ বছরের জন্য জাতির জন্য ভালো কিছু করতে পারি কিনা সেটাও আমরা আলোচনা করেছি। নির্বাচনের পরে শপথ গ্রহণের আগে আমরা আবার একসাথে বসবো।” প্রতিবেদনে যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছ তার সঙ্গে ফটোকার্ডের ছবিটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, বিএনপির সাথে আলোচনা করে সরকার গঠন করতে চাওয়ার ব্যাপারে জামায়াতের আমীরের মন্তব্যের দাবিতে ছড়ানো আমার দেশের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি ভুয়া।

২য় ফটোকার্ড

ফেসবুকে দশের লাঠি নামের একটি পেজ থেকে ১৫ জানুয়ারিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। আমার দেশের আদলে বানানো সেই ফটোকার্ডের ছবিতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান মাইক্রোফোন হাতে কথা বলছেন। তার পেছনে কয়েকজন ব্যক্তির সাথে এক নারীকে দেখা যাচ্ছে।

ছবিতে চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের লোগোও দেখা যাচ্ছে। কার্ডের ভেতরে লেখা, “গানম্যান  সহ মহিলা দেহরক্ষী পেলেন জামায়াতের আমির ডাঃ শফিকুর রহমান”। ফটোকার্ডের উপরের অংশে আমার দেশ পত্রিকার লোগো দেওয়া। নিচের দিকে কার্ডের তারিখ বোঝাতে “১৫ জানুয়ারি ২০২৬” লেখা। পাশে গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেওয়া আছে। 

এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ৭০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে এবং ৬ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা পোস্টে ৭০০টির বেশি মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্য করে লেখেন, “মহিলা আমিরের কি করবে? জনগণের প্রশ্ন❓”,  আরেকজন লিখেছেন, “আহা,,,জামাতি।”

এই ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গেও আমার দেশ পত্রিকার ফটোকার্ডের ফন্টের কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়। সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ১৫ জানুয়ারির ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। 

কিন্তু জামায়াত আমীরের নিরাপত্তায় গানম্যানের সাথে মহিলা দেহরক্ষীর দেওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে কোনো ধরনের ফটোকার্ড বা খবর সংবাদমাধ্যমটির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়না। এছাড়া, আমার দেশের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে এ সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি।

প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,গত ১৩ জানুয়ারি অস্ত্রধারী দেহরক্ষী ও বাসভবনে নিরাপত্তা পেয়েছেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তবে সেখানে নারী দেহরক্ষীর ব্যাপারে কোনো তথ্য নেই।

ফটোকার্ড দুটির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে দৈনিক আমার দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। সংবাদমাধ্যমটির সহযোগী সম্পাদক আলফাজ আনাম ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেন, এমন কোনো ফটোকার্ড আমার দেশ প্রকাশ করেনি।

অর্থাৎ, আমার দেশের নামে প্রচারিত কার্ড দুটির দাবিগুলো ভুয়া। তবে আমার দেশের ফটোকার্ড নকল করে ভুয়া দাবি প্রচারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। ইতঃপূর্বে আমার দেশ ও জামায়াতের আমীরকে নিয়ে ছড়ানো একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে  উঠে এসেছে।

আরো কিছু লেখা