সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব
Fact-check of a fake Kalbela photocard falsely claiming that paying project dues from Dr. Muhammad Yunus’s tenure would reduce Bangladesh’s foreign exchange reserves below half.

ড. ইউনূসকে জড়িয়ে কালবেলার নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

ইন্টার্ন, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম কালবেলার লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। কার্ডে দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সময় করা বিভিন্ন প্রকল্পের বকেয়া টাকা পরিশোধ করতে গেলে দেশের রিজার্ভ অর্ধেকের নিচে নেমে যাবে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, এমন কোনো ফটোকার্ড দৈনিক কালবেলা প্রকাশ করেনি। 

ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ছবিযুক্ত ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ভেতরে কালো হরফে লেখা, “ডঃ ইউনুসের আমলের বিভিন্ন প্রকল্পের বকেয়া টাকা পরিশোধ করলে রিজার্ভ নেমে আসবে অর্ধেকের নিচে”। ফটোকার্ডের উপরে বাম দিকে কালবেলার লোগো এবং ডানে তারিখ হিসেবে “১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬” উল্লেখ করা। 

Fact-check of a fake Kalbela photocard falsely claiming that paying project dues from Dr. Muhammad Yunus’s tenure would reduce Bangladesh’s foreign exchange reserves below half.
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো কালবেলার নকল ফটোকার্ডসহ একাধিক ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট।

ক্যাপশনের প্রথম অংশে পোস্টদাতা লিখেছেন, “ডঃ ইউনুস গত দেড় বছরে চতুরতার মাধ্যমে রিজার্ভ বৃদ্ধি দেখিয়েছে।দেড় বছরে বিদ্যুৎ এর জালানি টাকা , পদ্মা সেতুর কিস্তি টাকা থেকে শুরু করে কোনো প্রকল্পের টাকা পরিশোধ করেনি। শুধুমাত্র বিদ্যুতের জালানি বাবদ বকেয়া রেখেছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। কারন বিদেশী কোম্পানি গুলোর টাকা পরিশোধ করতে হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ডলারে রিজার্ভ থেকে।” (লেখা অপরিবর্তিত) 

এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত পোস্টে ১ হাজারের অধিক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে এবং ফটোকার্ডটি চার শর বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে। পোস্টে মন্তব্য করা হয়েছে অন্তত ৩০০টি। মন্তব্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, অনেকেই তথ্যটিকে সত্য বলে ধরে নিয়েছেন এবং নিজের মতামত দিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আমি অনেক আগে থেকে এই ধারণা করছিলাম যে বাটপার এরকম কিছু একটা করছে”। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “স্যার বুদ্ধিমান ,ব্যবসায়ী মানুষ। হিসাবে অতি পাকা।” (বানান অপরিবর্তিত)।

ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ (, , , ) এবং ব্যক্তিগত প্রোফাইল (, , , , , ) থেকে একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।

ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে কালবেলার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজের ১৯ ফেব্রুয়ারির ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। তবে, নির্দিষ্ট এই তারিখ ড. ইউনূসের ব্যাপারে এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। এছাড়াও কালবেলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলেও এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা খবর পাওয়া যায়নি।

কালবেলার ফেসবুক পেজ যাচাইয়ে, ১৯ ফেব্রুয়ারি ড. ইউনূসের ছবিযুক্ত শুধু একটি ফটোকার্ড প্রকাশিত হতে দেখা যায়। সেই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা, “লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন ড. ইউনূস”। তবে, প্রচারিত ফটোকার্ডের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমটির নিজস্ব ফটোকার্ডের নিচের ব্যাকগ্রাউন্ডের রং, হরফের রং ও ফন্টের পার্থক্য রয়েছে।

Fact-check of a fake Kalbela photocard falsely claiming that paying project dues from Dr. Muhammad Yunus’s tenure would reduce Bangladesh’s foreign exchange reserves below half.
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফটোকার্ড (বামে) ও কালবেলার আসল ফটোকার্ড (ডানে)।

এ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে সংবাদমাধ্যমটির সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। কালবেলার সহকারী নিউজ এডিটর সাঈদ আল হাসান শিমুল ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করে বলেন, এমন কোনো ফটোকার্ড সংবাদমাধ্যমটি প্রকাশ করেনি।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে বিদায়ী ভাষণে ড.ইউনূস বলেন,“আমাদের রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩৪ বিলিয়ন ডলার।” গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। তবে দেশের কোনো নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমের সূত্রে রিজার্ভ অর্ধেকে নেমে আসার ব্যাপারে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দেখা যায়নি। 

অর্থাৎ, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমলে করা প্রকল্পগুলোর বকেয়া টাকা শোধ করতে রিজার্ভ অর্ধেকের নিচে নেমে যাওয়ার দাবিতে কালবেলার নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া।

আরো কিছু লেখা