
যৌথবাহিনীর অভিযানে জামায়াত নেতা মিলন মিয়াকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে দাবিতে একটি ছবি সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মিলন মিয়া নামের এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। সংবাদ প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবি অস্ত্রসহ জামায়াতের নেতা আটকের দাবিতে সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়ানো হচ্ছে।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৩০ জানুয়ারি একটি ছবি পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনে লেখা হয়, “গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযানে জামায়াত নেতা মিলন মিয়াকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়।”

ছবিতে এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়, যার গলায় একটি বোর্ড টাঙানো রয়েছে। বোর্ডে লেখা, “মিলন মিয়া (৪৪)।” সামনের টেবিলে ৬টি অস্ত্র রাখা আছে। টেবিলের বোর্ডে “দেশি অস্ত্র” লেখা।
সত্যতা যাচাইয়ে ডিসমিসল্যাব ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেশ রূপান্তরের একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায়। গত ৩০ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে ব্যবহৃত ছবির সাথে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের ছবির হুবহু মিল লক্ষ্য করা যায়। প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “গাইবান্ধায় অস্ত্রসহ বিএনপি নেতা আটক।”
প্রতিবেদনে বলা হয়, “গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় দেশীয় অস্ত্রসহ মিলন মিয়া (৪৫) নামের এক বিএনপির নেতাকে আটক করেছে যৌথ বাহিনী। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফুলছড়ি থানার ওসি দুরুল হোদা। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ফুলছড়ি উপজেলার বালাশীঘাট এলাকার রসুলপুর গ্রামে এ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।”
একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ৩০ জানুয়ারিতে প্রকাশিত চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলায় অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মিলন মিয়া (৪৪) নামের এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। তিনি কঞ্চিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি এবং উপজেলার দক্ষিণ রসুলপুর গ্রামের মৃত মেছের উদ্দিন সরকারের ছেলে।”

উল্লেখ্য সব প্রতিবেদনেই ছড়িয়ে পড়া ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং আটককৃত মিলন মিয়াকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, জামায়াত নেতাকে আটকের দাবিতে ছড়াচ্ছে বিএনপি নেতা আটকের ছবি।
অস্ত্রসহ জামায়াত কর্মী আটক হওয়ার ভুয়া দাবি নিয়ে অতীতে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডিসমিসল্যাব।