
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ‘ডা.দিপু মনি’ নামে একটি পেজ থেকে বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনির একের পর এক পুরোনো ছবি ও ভিডিও নতুন দাবিতে প্রচারিত হচ্ছে। কখনো আন্তর্জাতিক কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা বা কোনো সংবাদসংস্থার সঙ্গে বৈঠক, কখনো আবার জেল থেকে মুক্তি পেয়ে দীপু মনির গণমানুষের সঙ্গে সাক্ষাতের বার্তাও দেওয়া হচ্ছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, পেজটি থেকে একাধিক পুরোনো ছবি ও ভিডিও সাম্প্রতিক সময়ের দাবিতে ছড়ানো হচ্ছে।

‘ডা.দিপু মনি’ নামের পেজ (আর্কাইভ লিংক) থেকে ছড়িয়ে পড়া ফেসবুক পোস্টগুলোতে অনেক ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছে। একাধিক ব্যবহারকারী ঘটনাগুলো সত্য বলেও ধরে নিয়েছে।

পেজটি যাচাই করে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি সেটি খোলা হয়েছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পেজটির ১৫ হাজারের অধিক অনুসারী রয়েছে, পোস্ট দেওয়া হয়েছে ৩২টি।
ফেসবুকে ১৭ জানুয়ারি পোস্ট হওয়া একটি ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “কারামুক্তির পর প্রথম লাইভ..যারা সবসময় পাশে ছিলেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা, শেখ হাসিনার স্পষ্ট নির্দেশনা- দুঃসময়ে আলো হয়ে দলের পাশে দাঁড়ানো দেশে থাকা কর্মীদের দিয়ে আগামী দিনের সকল সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে ইনশাআল্লাহ।আপনাদের কাছে অনুরোধ ভিডিওটি সর্বোচ্চ শেয়ার করে সবার কাছে পৌঁছে দিন, আর আমার পেজটা ফলো করুন। জয় বাংলা ✊” (লেখা অপরিবর্তিত)।
এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত ভিডিওটি দেড় লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ৬০০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওতে সাড়ে ৭ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

ঘটনাটির সত্যতা যাচাইয়ে একাধিক কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে ডা. দীপু মনি নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ২০২০ সালের ২২ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে চাঁদপুর-৩ নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য শুভেচ্ছা।” ১ মিনিট ২৮ সেকেন্ডের ভিডিওর শেষ ৫৩ সেকেন্ডের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়।
অর্থাৎ, ২০২০ সালে দীপু মনির দেওয়া একটি বক্তব্যের পুরোনো ভিডিওকে সম্প্রতি তিনি কারামুক্ত হয়ে ফেসবুক লাইভে বক্তব্য রাখছেন দাবিতে প্রচার করা হয়েছে যা সত্য নয়।
গত ১৯ জানুয়ারি দীপু মনি কারামুক্ত হওয়ার আরেকটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিওর বিবরণে লেখা, “আলহামদুলিল্লাহ..দীর্ঘ ৫১৯ দিন পর চাঁদপুরের মাটির ঘ্রাণ অনুভব করলাম, চাঁদপুরের মুক্তিকামী মানুষ শেখ হাসিনার জন্য জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত আছে। ২৩ তারিখ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করতে পারেন, নেত্রীর প্রত্যাবর্তনের দিন ইতিহাসের সাক্ষী হতে ঢাকায় কোটি মানুষের সমাগম হবে ইনশাআল্লাহ।” এখন পর্যন্ত ভিডিওটি ৪ লাখ ৪০ হাজারের বেশিবার দেখা হয়েছে এবং ভিডিওতে সাড়ে ১১ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। পোস্টটি দেড় হাজারের বেশিবার শেয়ার করা হয়েছে।

তবে যখন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয় তখন ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে ‘প্রজন্ম একাত্তর’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে ২০২৪ সালের ১২ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “নব নিযুক্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির চাঁদপুর আগমন উপলক্ষে সার্কিট হাউজে উচ্ছ্বসিত নেতা কর্মীরা।” ৪ মিনিট ০৯ সেকেন্ডের ভিডিওটির ৫৯ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর দৃশ্যপটের হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।
অর্থাৎ, ডা. দীপু মনি জামিনে কারামুক্ত হয়ে চাঁদপুর ভ্রমণের দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক ঘটনার নয় বরং, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে চাঁদপুর সার্কিট হাউজে তাকে দলীয় নেতা-কর্মীদের অভ্যর্থনার দৃশ্য এটি।
ফেসবুকে ১৮ জানুয়ারি আরেকটি দীপু মনির ভিডিও পোস্ট করা হয়। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) -কে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে ময়মনসিংহের পাইওনিয়ার্স নিটওয়্যারস (বিডি) লিমিটেড কারখানার কর্মী দীপু চন্দ্র দাসকে কারখানা থেকে ধরে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। একপর্যায়ে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভাজকের একটি গাছে বিবস্ত্র করে ঝুলিয়ে মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনার সঙ্গে মিলিয়ে একটি ভিডিও প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়, “শেখ হাসিনার নির্দেশে ময়মনসিংহের ভালুকায় ইউনূসের ‘মব’ বাহিনীর হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার সনাতন ধর্মাবলম্বী দীপু চন্দ্র দাস এর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলাম।তার পরিবারের সকল দায়দায়িত্ব আমাদের একমাত্র অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপা নিয়েছেন।” (লেখা অপরিবর্তিত)।

আগের মতো ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে বিভিন্ন কিফ্রেম সার্চ করতেই সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৫ পাওয়া তামান্নাকে ফোন দিয়ে যা বললেন দীপু মনি |”
৩ মিনিট ৪৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওর ১ মিনিট ১৫ সেকেন্ড থেকে ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড পর্যন্ত অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে পা দিয়ে লিখে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় যশোর বোর্ড থেকে জিপিএ -৫ পেয়েছিলেন তামান্না আক্তার নূরা নামের এক শিক্ষার্থী। এই সাফল্যের পর তামান্নার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছিলেন তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। এটি সেই ঘটনার দৃশ্য।
অর্থাৎ, ৪ বছরের পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিওকে দীপু মনি কর্তৃক দীপু চন্দ্র দাসের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের মুহূর্তের দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
গত ১৮ জানুয়ারি পেজটি থেকে দীপু মনির একটি ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয় লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে তিনি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “লন্ডন ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের মুখোমুখি হয়েছিলাম আজ। অস্তিত্বের লড়াইয়ে এক বিন্দুও ছাড় হবে না ✊এই দেশ আপনার-আমার, তাই এই দেশকে রক্ষা করার দায়িত্বও আপনার-আমার নিতে হবে। আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।”

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ডিসমিসল্যাব খুঁজে পায় ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও। ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা, “”এটা আমি পুরোপুরি উপভোগ করেছি!” বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আমাদের জানাচ্ছেন যে, ‘এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ফোরাম ২০২০’-এ সপ্তাহব্যাপী আলোচনা কী নিয়ে ছিল। ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহযোগিতায় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই ফোরামটির নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্বনেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষা খাতের অগ্রদূতগণ, যেখানে বিশ্বজুড়ে প্রচলিত শিক্ষা নীতি এবং সর্বোত্তম অনুশীলনগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।” ফিউচার অফ এডুকেশন এই হ্যাশট্যাগটি ব্যবহার করা হয়েছে।
৫০ সেকেন্ডের ভিডিওর ১৮ সেকেন্ড থেকে ৪৪ সেকেন্ড অংশের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে।
অতএব, “রয়টার্সের মুখোমুখি হয়েছিলেন দীপু মনি” এমন দাবিতে প্রচারিত ভিডিও এবং সংশ্লিষ্ট বক্তব্য ভিত্তিহীন।
জামিন পেয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন দীপু মনি এমন দাবিতে একটি ছবি গত ১৭ জানুয়ারি ছড়িয়ে পড়ে। ছবির ক্যাপশনে লেখা, “কারামুক্তির পর মার্কিন প্রতিনিধিদের সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলাম—এই সাক্ষাৎ শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহন ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অবস্থান নিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শেখ হাসিনার নেতৃত্ব ও আওয়ামী লীগের গ্রহণযোগ্যতা যে এখনো প্রভাবশালী, এই বৈঠক সেটাই প্রমাণ করল।”
এই প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত পোস্টে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা পোস্টে আট শর বেশি মন্তব্য করেছেন। একজন মন্তব্য করে লেখেন, “জাতি প্রতিক্ষার প্রহর গুনছে ।কবে আসবেন বীরবেশে নেত্রী।” একজন মন্তব্য করে লেখেন, “ইনশাআল্লাহ আমরা মাননীয় নেত্রীর অপেক্ষায়” (বানান অপরিবর্তিত)।

ছড়িয়ে পড়া ছবিটি রিভার্স ইমেজ যাচাই করে ডিসমিসল্যাব দীপু মনির ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর প্রকাশিত একটি পোস্ট খুঁজে পায়। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “আজ ১৩ নভেম্বর, ২০২৩, প্যারিস সময় সকাল দশটায় শুরু হওয়া ইউনেস্কোর জেনারেল কনফারেন্স এর ৪২ তম সেশনের জেনারেল ডিবেটে তৃতীয় বক্তা হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেছি। বক্তব্যের পর প্যালেস্টাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী রিয়দাম আল মালিকির সাথে আলোচনা হয়।” পোস্টে থাকা ছবির সঙ্গে ছড়ানো ছবির হুবহু মিল রয়েছে।
এ ব্যাপারে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করলে চ্যানেল আই এর ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৩ সালের ১৩ নভেম্বর “প্যালেস্টাইনে নির্বিচারে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ”- এই শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেদিন ইউনেস্কোর সাধারণ সভার ৪২ তম অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের প্রধান হয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন দীপু মনি। সেখানে ফিলিস্তিনে নির্বিচারে গণহত্যা বন্ধের আহ্বান জানান তিনি।
অর্থাৎ মার্কিন প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎকারের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি ২০২৩ সালের পুরোনো ছবি।
১৮ জানুয়ারি পেজটি থেকে কয়েকটি ছবি ছড়িয়ে ক্যাপশনে লেখা হয়, “ফুল-টাইম ফায়ারিং পারমিট সহকারে ২৫ হাজার সামরিক সদস্যের সহযোগে প্রত্যাবর্তন হবে এমনটাই সিদ্ধান্ত হলো।পাশাপাশি সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বিমানবন্দরে ২ লক্ষ নেতাকর্মী উপস্থিত হয়ে সমগ্র ঢাকা ব্লকেড করে দিতে হবে। জরাজীর্ণ দেশটাকে পরিশুদ্ধ করার সময় এসেছে,অপেক্ষায় আপামর জনগণ।”

বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট থেকে ২০২১ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। সেখানে শিরোনাম ছিল, “ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।” প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবিগুলো সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া দাবির ছবিগুলোর হুবহু মিল পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, “ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ভিনসেন্ট চ্যাং সম্প্রতি মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনির সাথে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে তারা শিক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন, পাশাপাশি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করেন। সাক্ষাতে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভ ডাউল্যান্ডও উপস্থিত ছিলেন।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দীপু মনি তৎকালীন সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন এবং ভিনসেন্ট চ্যাং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
অর্থাৎ, ২০২১ সালে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী থাকা অবস্থায় দীপু মনি ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্যের মত বিনিময়ের ছবিগুলো ২৫ সামরিক সদস্যের সহযোগে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে এমন দাবিতে প্রচারিত হচ্ছে যা সম্পূর্ণ ভুয়া।
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘ডা.দিপু মনি’ নামের পেজটি দীপু মনির মূল পেজ নয়। দীপু মনির প্রকৃত অ্যাকাউন্টটি ভেরিফায়েড এবং সেটি ২০১২ সালের ০৫ জানুয়ারি খোলা হয়েছে। অ্যাকাউন্টটিতে ৭ লাখ ৮০ হাজারের ওপরে অনুসারী রয়েছে এবং ৯ হাজার ৩০০ এর অধিক পোস্ট করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় ঢাকার বিভিন্ন থানায় দায়ের হওয়া মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনি কারাগারে আছেন।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে বাড্ডা থানার হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী দীপু মনিকে সেদিন ঢাকার বিচারিক আদালতে হাজির করা হয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন। অর্থাৎ, তিনি এখনো কারাগারেই আছেন।