
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যম একাত্তর টিভির লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়েছে। কার্ডে দাবি করা হচ্ছে মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্রসহ পাঁচ শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, একাত্তর টিভির নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া।
ফেসবুকে একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ছবিতে পাঁচ ব্যক্তিকে দেখা যাচ্ছে। গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের সামনে রাখা একটি টেবিলের ওপর অনেক দেশীয় অস্ত্র সাজানো রয়েছে। কার্ডের শিরোনামে লেখা, “মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ শিবির কর্মী গ্রেফতার”।

ফটোকার্ডের মাঝামাঝি একাত্তর টিভির লোগো দেওয়া। বামপাশে তারিখ হিসেবে, “৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬” উল্লেখ করা। নিচে বামে একাত্তর টিভির লোগো। এরপর ওয়েবসাইট, এক্স অ্যাকাউন্ট ও ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজের ঠিকানা দেওয়া আছে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা, “বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্রসহ ৫ শিবির কর্মী গ্রেফতার”। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ফটোকার্ডটি ১১৫ বার শেয়ার করা হয়েছে।
ফটোকার্ডের সত্যতা নিশ্চিত করতে একাত্তর টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত ৫ ফেব্রুয়ারির সব ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। নির্দিষ্ট এই তারিখে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে একই ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছে এমন একটি ফটোকার্ড চলতি একাত্তর টিভির অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। কার্ডের শিরোনামে লেখা, “মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযান গ্রেপ্তার ৫”।

একাত্তর টিভি তাদের নিজস্ব ফটোকার্ডে সাদা এবং হলুদ রঙের ফন্ট ব্যবহার করে। একাত্তর টিভির ফেসবুক পেজ থেকে পোস্ট করা সব ফটোকার্ডে এমনটাই দেখা যায়। তবে প্রচারিত ফটোকার্ডের লেখা সাদা রঙের হরফে হয়েছে। অন্যদিকে সংবাদমাধ্যমটি থেকে প্রকাশিত ফটোকার্ডের ফন্টের সাথেও ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডের ফন্টের পার্থক্য আছে।
এ ব্যাপারে আরও বিশদ যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড সার্চ করলে একাধিক সংবাদমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪, ৫) প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। যমুনা টিভির প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার চাঁদ উদ্যান ও সোনা মিয়ার টেক্কি এলাকায় সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে তালিকাভুক্ত হত্যা মামলার পলাতক প্রধান আসামি শাওনসহ (২৩) পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে। গতবছর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে শাওনকে প্রকাশ্যে হত্যা করতে দেখা যায়। তবে, প্রতিবেদনের কোথাও তাদের শিবির কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়নি।

এ সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে সংবাদমাধ্যমটির সাথে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। একাত্তর টিভির অনলাইন সম্পাদক ও হেড অব আউটপুট আরিফ রহমান শিবলী ডিসমিসল্যাবকে জানান, এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড তারা প্রকাশ করেননি। তিনি আরও জানান, সম্পাদিত করেই ফটোকার্ডে অন্য লেখা বসানো হয়েছে। এডিটের সময় লোগো এবং ছবিটির আকার পরিবর্তিত হয়েছে।
অর্থাৎ, মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ৫ শিবিরকর্মী আটকের দাবিতে একাত্তর টিভির নামে ছড়ানো কার্ডটি ভুয়া।