সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব
ফ্যাক্টচেক বাংলাদেশে ধর্ষণের পর নারীকে খুনের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি ভারতের

ছয় মাস আগের ফ্যাক্টচেক হওয়া তথ্য পুনরায় ছড়াচ্ছে ভুয়া দাবিতে

সুদেষ্ণা মহাজন অর্পা

রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, ডিসমিসল্যাব

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি মরদেহের ছবি পোস্ট দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশে ওই নারীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিটি ভারতের। যাচাইয়ে আরও জানা যায়, গত ছয় মাস আগেও একই দাবিতে ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় একাধিক তথ্যযাচাইকারী সংস্থার প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের আসাম রাজ্যে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পরের ছবি এটি।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে আজ, ১ এপ্রিল এক নারীর মৃতদেহ জঙ্গলে পড়ে থাকার ছবিটি পোস্ট করা হয়। ছবির ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “বাংলাদেশে সব চেয়ে অনিরাপদ আমার মা বোনেরা। ধ*র্ষন করে খু*ন করা  হয়েছে এই বোনটিকে। গত ১৮ মাসে হাজার মা বোন ধ*র্ষন করেছে নরপিশাচ নরপশুরা কোন বিচার হচ্ছে না দেশে নেই কোন আইনের শাসন  😭” (লেখা অপরিবর্তিত)।

ফ্যাক্টচেক: বাংলাদেশে ধর্ষণের পর নারীকে খুনের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি ভারতের
ভুয়া দাবিতে ছড়ানো ফেসবুক পোস্টের ক্রিনশট।

এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ পর্যন্ত ছবিটি ৭০ বারের বেশি শেয়ার করা হয়েছে। ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল, পেজ ও গ্রুপ থেকে (, , , , , , , ) একই দাবিতে ছবিটি পোস্ট করা হয়।

সত্যতা যাচাইয়ে ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ‘কোনমানি রাজবংশী কোনমানি’ নামক একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে গতবছরের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি পোস্ট পাওয়া যায়। পোস্টের ক্যাপশনে অসমীয় ভাষায় লেখা, “পারলে পোস্ট টি শেয়ার করুন। আধার কার্ডে নাম ও ঠিকানা দেওয়া আছে……. ২৩ বছর বয়সী এই তরুণীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। দয়া করে শেয়ার করুন যাতে পরিবারের সবাই জানতে পারে মেয়েটিকে গাইনদী রেলওয়ে ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকার কাছে ফেলে দেওয়া হয়েছে। হয়তো সেখানে একটি খুনের মামলা হতে পারে। পরিবার খুঁজে পেলে সঠিক তথ্য সামনে আসবে। ঠিকানা: মারকত্ত্বা, দিনাবন কলিতা, শিলআলী মজু গ্রাম, জামুগুৰি পাথলি, ১নং বিষ্ণুপুর, ধেমাজি, আসাম-৭৮৭০৫৭।” পোস্টে যুক্ত ২য় ছবিটির সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির হুবহু সাদৃশ্য রয়েছে।

ফ্যাক্ট চেক প্রতিবেদন:  বাংলাদেশে ধর্ষণের পর নারীকে খুনের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি ভারতের
‘কোনমানি রাজবংশী কোনমানি’ নামক ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পোস্ট।

এ বিষয়ে অধিকতর যাচাইয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক কিওয়ার্ড ধরে সার্চ করলে আসামভিত্তিক ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ এইটিন অসম এর ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পায় ডিসমিসল্যাব। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের আসামে ধেমাজির গাইনদী নদীর তীরে এক তরুণীর মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের নাম জ্যোতিকা কলিতা। পরিবারের ধারণা, কোনো দুষ্কৃতকারী তাকে হত্যা করেছে।

নিহত জ্যোতিকা ধেমাজি জেলার বিষ্ণুপুরের শিলআলি মাজগাঁও এলাকার বাসিন্দা ছিলেন এবং মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। ৯ অক্টোবর তিনি বাড়ি থেকে ধেমাজি শহরে গিয়ে একটি পার্লারে প্রশিক্ষণ নেন এবং বিকেল চারটার দিকে সেখান থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরদিন ধেমাজি শহর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরের গাইনদী রেলওয়ে ব্রিজের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় কালচে দাগ দেখা গেছে ও মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল। ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে AS22K2117 নম্বরের একটি স্কুটিও উদ্ধার করা হয়।

ফ্যাক্ট চেক রিপোর্ট: বাংলাদেশে ধর্ষণের পর নারীকে খুনের দাবিতে প্রচারিত ছবিটি ভারতের
মূল ঘটনা নিয়ে আসামভিত্তিক ভারতীয় গণমাধ্যম নিউজ এইটিন অসমমের সংবাদ প্রতিবেদন।

‘কোনমানি রাজবংশী কোনমানি’ এর ফেসবুক পোস্টেও হুবহু একই নারীর ছবি এবং নম্বরওয়ালা স্কুটির ছবি পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, ৬ মাস আগেও অর্থাৎ গত বছরের অক্টোবর মাসে একই ছবিটি বাংলাদেশে এক নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দাবিতে ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় একাধিক তথ্য যাচাইকারী (, ) সংস্থা এ বিষয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ভারতের আসাম রাজ্যে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের পরের ছবি এটি।

অর্থাৎ, ছয় মাস আগের ফ্যাক্টচেক হওয়া ভারতের আসামে নারীর মৃত্যুর ঘটনাকে পুনরায় বাংলাদেশে ধর্ষণের পর এক নারীকে হত্যার ভুয়া দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে, যা সত্য নয়।

আরো কিছু লেখা