তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব
Fact-check reveals the viral “Epstein Files” image showing Jeffrey Epstein with a child was digitally edited by replacing Ghislaine Maxwell from the original photo.

জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে শিশুর ছবিটি সম্পাদিত

তাসনিম তাবাস্সুম মুনমুন

ফেলো, ডিসমিসল্যাব

এপস্টেইন ফাইলের ছবি দাবিতে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে একটি শিশুর ছবি সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, মূল ছবি থেকে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলকে সরিয়ে সম্পাদনা করে শিশুটিকে কৃত্রিমভাবে যুক্ত করা হয়েছে।

মার্কিন বিনিয়োগকারী জেফরি এপস্টেইন একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন নিপীড়ন ও পাচারের এক বিশাল নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন তিনি। “এপস্টেইন ফাইলস” বলতে তার যৌন নির্যাতন ও মানবপাচার সংক্রান্ত অপরাধ, অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আদালতের নথি, ইমেইল ও তদন্তমূলক উপকরণের একটি বৃহৎ সংগ্রহকে বোঝায়। গত ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ৩০ লাখ পৃষ্ঠার বেশি নথির পাশাপাশি ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও ২ হাজার ভিডিও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ থেকে প্রকাশিত এপস্টেইন ফাইলের ছবি হিসেবে ফেসবুকে (, , ) ছড়িয়ে পড়া ছবিতে জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সবুজ পোশাকের এক মেয়ে শিশুকে দেখা যায়। পাশেই একটি বিছানায় একই পোশাকের একটি শিশুর হাত-পা বাঁধা ছবিও ছড়িয়ে পড়ে। 

কিফ্রেম সার্চে বিভিন্ন গণমাধ্যমে (, , ) প্রকাশিত জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে তার বান্ধবী গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের একটি ছবি পাওয়া যায়। জেফরি এপস্টেইনের অপরাধের সহায়তাকারী হিসেবে অভিযুক্ত করে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার পর ২০১৯ সালের ১৫ আগস্ট এবিসি নিউজ (আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি)-এর এক প্রতিবেদনেও ছবিটি পাওয়া যায়। এর আগেও ছবিটি আমেরিকাভিত্তিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। 

ছবিটি মূলত আমেরিকান ফটোগ্রাফার প্যাট্রিক ম্যাকমুলান ২০০৫ সালের ১৬ মার্চ তুলেছিলেন। নিউ ইয়র্কের এক কনসার্টের এই ছবিটি গেটি ইমেজে আপলোড করা হয় ২০১৬ সালের ১৯ আগস্ট। যাচাই করা ছবির সঙ্গে এই ছবিতে জেফরি এপস্টেইনের দাঁড়ানোর ভঙ্গি, পোশাকের ধরন ও রং, হাতের অবস্থান ও ঘড়িসহ পেছনের দৃশ্য মিলে যায়। এই ছবিটি সম্পাদনা করে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের স্থানে এক শিশুকে বসানো হয়েছে। 

গত বছরের ৩ ডিসেম্বর এপস্টেইনের অপরাধ নিয়ে চলমান তদন্তে সহায়তার জন্য ইউএস ভার্জিন আইল্যান্ডস বিচার বিভাগের কাছ থেকে পাওয়া ‘এপস্টেইনের দ্বীপে’র ছবি ও ভিডিও প্রকাশিত হয়। এর পরই জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সবুজ পোশাকের এক মেয়ে শিশুর ছবি ছড়িয়ে পড়লে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে লিড স্টোরিজ। তারা এই ছবিটিকে ডিজিটালভাবে সম্পাদিত বা ভুয়া বলে জানায়।

লিড স্টোরিজ আরও জানায়, বিছানায় হাত-পা বাঁধা ও মুখ বন্ধ করা মেয়ে শিশুর ছবিটিও ডিজিটাল উপায়ে সম্পাদনা করা হয়েছে। মূল ছবিতে নীল রঙের প্যান্ট পরা একটি ছেলেকে দেখা যায়। এই ছবিটি পরবর্তীতে একাধিকবার (, ) সম্পাদনা করে ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে ছড়ানো হয়েছে। মূল ছবিটি ২০০৬ সাল থেকে অনলাইনে আছে। 

উল্লেখ্য, ১৯৮২ সালে জনি গশ নামে ১২ বছরের এক শিশু আমেরিকার আইওয়া রাজ্য থেকে নিখোঁজ হয়। প্রায় ২৪ বছর পর তার মায়ের কাছে কিছু ছবি পাঠানো হয় যার মধ্যে এই ছবি একটি। তিনি এটিকে তার ছেলের ছবি বলে দাবি করেন। তবে তৎকালীন তদন্তকারী পুলিশ জানান, এটি জনি গশ নিখোঁজ হওয়ার আগের একটি ছবি এবং এর সাথে শ্লীলতাহানির কোনো সরাসরি সম্পর্ক ছিল না। 

অর্থাৎ, ছড়ানো এই ছবি দুটো সম্পাদনার মাধ্যমে তৈরি।


প্রসঙ্গত, ২০০৮ সালে ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের দায়ে এপস্টেইন দোষী সাব্যস্ত হন। নারী পাচার–সংক্রান্ত মামলায় আটক অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আরো কিছু লেখা