
ডিএমপি কমিশনার এসএম সাজ্জাত আলী বলেছেন, তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। কমিশনারের এই বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার নমুনা দাবিতে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, ডিএমপি কমিশনার এই বক্তব্য দিয়েছেন বিগত নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার স্মৃতি হিসেবে। তার বক্তব্যকে আংশিকভাবে প্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয় গত ১২ ফেব্রুয়ারি। ক্যাপশনে লেখা, “তার ভোটও নাকি ইউনুস দিয়ে দিছে? নিন্দা জানাই।” ভিডিওর ভেতরে লেখা, “সুষ্ঠু নির্বাচনের নমুনা দেখুন।” ৮ সেকেন্ডের ভিডিওতে ডিএমপি কমিশনারকে বলতে শোনা যায়, “আমি এই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসছিলাম। গেটটা পার হয়ে যখন ভিতরে গিয়েছি, আমাকে শুনায়ে দেয়া হলো আপনার ভোট হয়ে গেছে।” এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ভিডিওটি ৮৫৮ বার শেয়ার করা হয়েছে। ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৯২ হাজার বারের বেশি।

ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে ইউটিউবে এটিএন নিউজ লাইভ চ্যানেলে গত ১২ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির শিরোনাম এবং বিস্তারিত বিবরণে লেখা, “বিগত নির্বাচনে ভোট দিতে না পারার স্মৃতি সামনে আনলেন ডিএমপি কমিশনার।” ২ মিনিট ২৮ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওতে ১ মিনিট ৫০ সেকেন্ডে তাকে প্রশ্ন করা হয় গত ১৭ বছরের ভোট এবং এবারের ভোটের মধ্যে তুলনা কেমন। এ প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, “এই কেন্দ্রেই আমি ভোট দিতে আসছিলাম ১৮ সালে। আমার বাসা এখানে ছিল আপনারা জানেন। আমি ২৫ বছর মোহাম্মদপুরে বাস করছি। এখন মিন্টু রোডে থাকি।” ২ মিনিট ৮ সেকেন্ড থেকে তিনি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর কথাগুলো বলেন।

একাধিক (১, ২, ৩, ৪) গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও তার এই বক্তব্য ২০১৮ সালের নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে বলা, তা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি যুগান্তরের প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, “চমৎকার ভোট হচ্ছে: ডিএমপি কমিশনার।” প্রতিবেদনের এক অংশে লেখা হয়, “সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, গুজব তো আরও আগে থেকেই ছড়ানো হচ্ছে। অনেক বলেছেন- নির্বাচন হবে না, সহিংসতা হবে; কিন্তু আমরা দেখছি একটি চমৎকার পরিবেশে উৎসবমুখর নির্বাচন হচ্ছে। এ সময় ২০১৮ সালের নির্বাচনের স্মৃতিচারণ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, আমি ২৫ বছরের ওপরে মোহাম্মদপুর থাকি। ২০১৮ সালের নির্বাচনেও ভোট দিতে এসেছিলাম। আমি যখন এই গেট দিয়ে ঢুকি তখন আমাকে বলা হয়–আপনার ভোট হয়ে গেছে।”
অর্থাৎ, ডিএমপি কমিশনারের খন্ডিত বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর ভাবে প্রচার করা হচ্ছে।