
সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সম্প্রতি একটি ভিডিও একটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ঢাকা কলেজ থেকে মাদকসহ চার শিবির কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি রাজধানীর লালবাগ এলাকায় ইডেন মহিলা কলেজের সামনে চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা কলেজের ৪ জন ছাত্রকে আটক করেছিল সেনাবাহিনী। সংবাদমাধ্যমের কোনো প্রতিবেদনে আটককৃতদের শিবিরকর্মী বলা হয়নি।
ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে গত ১ মার্চ ভিডিওটি পোস্ট করা হয়। ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ডর ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, সেনাবাহিনীর কাছে আটককৃত চারজন ব্যক্তি মাথা নিচু করে চেহারা আংশিক ঢেকে দাঁড়িয়ে আছেন। ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা কথাবার্তা শুনে বোঝা যায়, ছবি তোলার জন্য তাদের ৪ জনকে মুখ উঁচু করে, মাথা সোজা রেখে দাঁড়াতে বলা হচ্ছে। ভিডিওতে ২ জন ব্যক্তিকে কান্না করতেও দেখা যাচ্ছে।

ভিডিওর ভেতরে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের একটি ছবি সংযুক্ত করে লেখা, “ঢাকা কলেজ থেকে শিবিরের চার কর্মীকে মাদকসহ গ্রেফতার করলেন পুলিশ”। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “হায়রে মাদক ব্যবসায়ী জামাত শিবির আসুন রুখে দাঁড়াই এদের বিরুদ্ধে ✊”। এ প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত, ভিডিওটি ১৭ হাজার বারের বেশি দেখা হয়েছে এবং ভিডিওটি সাড়ে ১ হাজার ২০০ এর অধিক শেয়ার করা হয়েছে।
মন্তব্যের ঘরে একাধিক ব্যবহারকারী ঘটনাটি সত্য ধরে নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন,“এই মাদক ব্যবসায়ীদের কে সর্বস্তর শাস্তির জোরদার জানাচ্ছি”। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, “উপরে ইসলামী ভিতরে শয়তানি’’ (বানান অপরিবর্তিত)।
ফেসবুকের একাধিক ব্যক্তিগত প্রোফাইল (১, ২, ৩, ৪, ৫) থেকে একই দাবির ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওটির বিভিন্ন কিফ্রেম ধরে রিভার্স ইমেজ সার্চ করলে, ডিসমিসল্যাবের সামনে আসে সংবাদমাধ্যম বাংলাদেশ বুলেটিনের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি শর্টস। ভিডিওর শিরোনামে লেখা, “চাঁ`দাবাজির অভিযোগে সেনাবাহিনীর হাতে আ`টক ঢাকা কলেজের ৪ শিক্ষার্থী”। ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওর দৃশ্যপটের সাথে প্রচারিত ভিডিওটির সাদৃশ্য রয়েছে।
অধিকতর যাচাইয়ে প্রাসঙ্গিক বিভিন্ন কিওয়ার্ড সার্চ করে দেখে ডিসমিসল্যাব। ঘটনাটি নিয়ে সেসময় একাধিক সংবাদমাধ্যমে লিখিত (১, ২, ৩, ৪) ও ভিডিও প্রতিবেদন (১, ২, ৩, ৪) প্রকাশিত হয়েছিল।

ইত্তেফাকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি চাঁদাবাজির অভিযোগে ঢাকা কলেজের চার জন ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছিল সেনাবাহিনী। সেদিন রাজধানীর সন্ধ্যায় লালবাগ এলাকায় ইডেন মহিলা কলেজের ১ নম্বর গেটের সামনে থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই অপরাধে এর আগেও একবার তাদের আটক করা হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে রাত ৯টা ১০ মিনিটে তাদের লালবাগ থানার একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
একাধিক সংবাদমাধ্যমে (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬) আটককৃত ছাত্রদের ছাত্রদল কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে, কোনো প্রতিবেদনেই আটককৃত ছাত্রদের শিবির কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থাৎ, ঢাকা কলেজ থেকে শিবিরের চার কর্মীকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে প্রচারিত দাবিটি সঠিক নয়। মূলত চাঁদাবাজি অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছিল এবং তাদের কাউকেই গণমাধ্যমে শিবির কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়নি।