
সম্প্রতি ডিবিসি নিউজের লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ড সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা ভোট পেলেও সমস্যা নেই, ভোটবাক্স মাথায় করে নিয়ে আসার দায়িত্ব ছাত্রদলের। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, প্রচারিত দাবিটি ভুয়া।
ফেসবুকের একটি গ্রুপ থেকে গত ২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছবি সম্বলিত ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়। ফটোকার্ডের ভেতরে সাদা হরফে লেখা, “জনগণ ভোট দাঁড়িপাল্লায় দেক সমস্যা নাই’’ভোট বাক্স মাথায় করে নিয়ে আসার দায়িত্ব ছাত্রদলের।’’

নিচের অংশে আকাশি রঙের হরফে “মির্জা ফখরুল ইসলাম’’ লেখা। কার্ডের উপরে বামদিকে সংবাদমাধ্যম ডিবিসি নিউজের লোগো দেওয়া রয়েছে। নিচে দিন ও তারিখ হিসেবে “২ ফেব্রুয়ারি,২৬। সোমবার’’ উল্লেখ করা। সংবাদমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেল এবং ওয়েবসাইটের ঠিকানাও দেওয়া আছে। ক্যাপশনে পোস্টদাতা লিখেছেন, “মহাসচিব এর বক্তব্য বিভ্রান্তকর!’’
ফেসবুকের একাধিক গ্রুপ থেকে (১, ২, ৩, ৪) একই দাবিতে ফটোকার্ডটি পোস্ট করা হয়।
ফটোকার্ডের সত্যতা যাচাইয়ে ডিবিসি নিউজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের ২ ফেব্রুয়ারির সব ফটোকার্ড ও পোস্টগুলো যাচাই করে দেখে ডিসমিসল্যাব। এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা প্রতিবেদনের লিংক সেদিন সংবাদমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া ডিবিসি নিউজের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলেও বিএনপির মহাসচিবের এমন কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে, গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে ২ ফেব্রুয়ারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একই ছবিটি ব্যবহৃত হয়েছে এমন একটি ফটোকার্ড প্রকাশিত হতে দেখা যায়। সাদা হরফে প্রকাশিত সেই ফটোকার্ডের শিরোনামে লেখা,“ জামায়াত ইসলাম এই দেশটাকে আফগানিস্তানে পরিণত করতে চায়: মির্জা ফখরুল’’।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানতে, ডিবিসি নিউজের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডিসমিসল্যাব। প্রতিষ্ঠানটির ডিজিটাল মিডিয়া বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম রুবেল ডিসমিসল্যাবকে নিশ্চিত করেছেন বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্যযুক্ত এমন কোনো ফটোকার্ড সংবাদমাধ্যমটি প্রকাশ করেনি। তিনি আরও জানান, প্রচারিত কার্ডে ব্যবহৃত ফন্ট ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ডের ফন্টের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
অর্থাৎ, মির্জা ফখরুল ইসলাম ছাত্রদলকে ভোটবাক্স নিয়ে আসার দায়িত্ব দিয়েছেন এমন দাবিতে ডিবিসি নিউজের নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া।