
জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে দাবিতে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে একাধিক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ডিসমিসল্যাবের ফ্যাক্টচেকে দেখা যায়, দাবিটি ভুয়া। দাবিটির পক্ষে উৎস হিসেবে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এর একটি তথ্য বিশ্লেষণধর্মী মতামতকে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সিপিডির মতামত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সেখানে নির্বাচন স্থগিত করা প্রসঙ্গে কিছু বলা হয়নি।

ফেসবুকের একটি ব্যক্তিগত প্রোফাইল থেকে গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি পোস্ট করা হয়। পোস্টে লেখা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা। সোর্স কমেন্টে।” ফেসবুকের একাধিক (১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮) ব্যক্তিগত প্রোফাইল, গ্রুপ, পেজ থেকে একই দাবিতে পোস্ট করা হয়।
এই পোস্টগুলোর কমেন্টে উৎস হিসেবে একটি লিংক দেখা যায়। লিংকটি চ্যানেল আইয়ের ৭ ফেব্রুয়ারির একটি পোস্টের লিংক। পোস্টটিতে বলা হয়েছে, “আওয়ামী লীগকে বাদ দিলে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না: সিপিডি।” পোস্টের কমেন্টে বিস্তারিত প্রতিবেদনের লিংক পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়া হলে সেই নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে না বলে মন্তব্য করেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী এলাকায় ‘সবুজ টেকসই অর্থনীতি’র চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল শীর্ষক এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে গবেষণা সংস্থাটি বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থক ও ভোটাররা চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।”
আরও বলা হয়, “বিভিন্ন জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে সিপিডি জানিয়েছে, এই বড় জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণ উপেক্ষা করা হলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সিপিডির মতে, একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব প্রধান রাজনৈতিক পক্ষ ও তাদের ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।” প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিবেদনের কোথাও নির্বাচন স্থগিত করার মতো কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
অধিকতর যাচাইয়ে সিপিডির ওয়েবসাইট দেখা হয় তবে সেখানে এ সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। সিপিডির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গত ৭ ফেব্রুয়ারি মিডিয়া ব্রিফিংটি লাইভ পোস্ট করা হয়। ক্যাপশনের এক অংশে বলা হয়, “সিপিডি মিডিয়া ব্রিফিং “নির্বাচনী এলাকায় ‘সবুজ টেকসই অর্থনীতি’র চালচিত্র ও প্রত্যাশা: প্রার্থী ও ভোটার জরিপের ফলাফল।”

সিপিডির মিডিয়া ব্রিফিংটি নিয়ে একাধিক (১, ২, ৩, ৪) সংবাদমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো প্রকাশিত প্রতিবেদনটির শিরোনাম ছিল, “দেশে কার্যত একটা দ্বিদলীয় নির্বাচন হতে যাচ্ছে: খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।” প্রতিবেদনটির এক অংশে বলা হয়, “এবারের নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন করেন আরেক সাংবাদিক। জবাবে পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপে দেখা যাচ্ছে, পতিত একটি দলের (আওয়ামী লীগ) ভোট এবারের নির্বাচনে ‘ফ্যাক্টর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর অর্থ হলো, একটি বড় অংশের ভোটার তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে ভোটারদের প্রার্থী বাছাইয়ের স্বাধীনতা কিছুটা হলেও সীমিত হচ্ছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক ভোটিংয়ের ধারণার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”
অর্থাৎ যে সূত্রকে উৎস হিসেবে ব্যবহার করে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার দাবি ছড়ানো হচ্ছে, সে উৎসে কোথাও এ ধরনের কোনো তথ্য নেই। অর্থাৎ দাবিটি ভুয়া।